লাকী সেভেন জয় নিতে মরিয়া মাটিরাঙা আ’লীগ: সুযোগে-বিএনপি

Mati Electমুহাম্মদ আবুল কাসেম: খাগড়াছড়ি জেলার বৃহত্তর বাঙালি অধ্যুষিত উপজেলা মাটিরাঙা। এ উপজেলাটি এক সময়ে বিএনপির ভোট ব্যাংক খ্যতিবহনকারী উপজেলা হলেও কতিপয় বিএনপির সুবিধাবাদী  সিনিয়র নেতাকর্মীদের দ্বৈত ভূমিকায় এ উপজেলার ঘরে ঘরে এখন আ’লীগের শক্ত অবস্থান। গেল পৌরসভা নির্বাচনেও এ উপজেলায় উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মো. শামসুল হক মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ইউপি নির্বাচন তপশীল ঘোষনার পর পরই এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৭জন আ’লীগ প্রার্থীই জয় নিশ্চিত করতে যেন মরিয়া হয়ে ওঠেছে। দলীয় প্রার্থীদের কোন প্রকার ক্ষমতার অপব্যহার করার সুযোগ না দিয়ে পাশাপাশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীও। সরকার দলীয়দের দুর্গে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার আশাবাদী। মাটিরাঙা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ঘুরে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

উপজেলা আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সূত্র জানায, বিদ্রোহী প্রার্থী সৃষ্টি হবার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন প্রার্থীতা বাছাইয়ের পদ্ধতিগত সিদ্ধান্ত ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি শামসুল হকের একক ক্ষমতার অপব্যহার। ইতোমধ্যে আ’লীগ প্রার্থী ও আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের কয়েকবার সংঘর্ষ ও থানায় জিডি/অভিযোগ জমাদানের ঘটনাও ঘটেছে।

আগামীকাল ২৩ এপ্রিল এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর অবস্থান পরিলক্ষিত হলেও প্রচারনা চলাকালে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় জনমনে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও আতংক। উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে রাত জেগে ঘরে ঘরে গিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে  নিজ নিজ প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট প্রয়োগের চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রার্থীদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।বিদ্রোহী প্রার্থীদের অভিযো,  নৌকা মার্কায় ভোট প্রয়োগ না করলে কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নাই বলে আ’লীগ নেতাকর্মীরা প্রচারনার শেষ সময়ে এলাকায় হুমকি অব্যাহত রেখেছেন  । তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আ’লীগ নেতাকর্মীদের দাবী, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই যোগ্য প্রার্থীরাই জয়যুক্ত হউক এমন প্রত্যাশা দলটির।

মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাচন সূত্র জানায়, মাটিরাঙা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী-২৬জন। এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী-৭জন, বিএনপি-৭জন, ইসলামী আন্দোলন-১, জাতীয় পার্টি-১ ও স্বতন্ত্র-১০জন। সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী সদস্য-৬০জন, সাধারন ওয়ার্ড প্রার্থী-২১০জন, বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সাধারন ওয়ার্ডে-০১জন নির্বাচিত।

ইউনিয়ন ওয়ারী হিসাবে- চেয়ারম্যান পদে রয়েছে বড়নাল ইউপিতে-৪জন, আমতলি ইউপি-৩জন, বেলছড়ি ইউপি-৪জন, গোমতি ইউপি-৩জন, মাটিরাঙা সদর ইউপি-৩জন, তবলছড়ি ইউপি-৪জন, তাইন্দং ইউপি-৫জন। ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র-৬৩, ভোট কক্ষ-১৬৪টি, মোট ভোটার ৫৪হাজার ২‘শ ১৬জন। ৬৩টি কেন্দ্রে ৬৩জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৬৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৬৪ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন। এদিকে, শুক্রবার ব্যালট পেপার, ভোটের বাক্সসহ প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে পুলিশী পহারায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পৌছানো হয়েছে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা।

মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান জানান, নির্বাচনকে সুষ্টু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  এ নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৫জন নির্বাহী মেজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে । তিনি আরো জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ২০জন করে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৭টি ইউনিয়নের ৬৩ কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনে থাকবে পুলিশের পৃথক নয়টি মোবাইল টিম। সবমিলিয়ে নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তার চাঁদরে মোড়ানো থাকবে মাটিরাঙ্গা উপজেলা।

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-আমতলী ইউনিয়নে-জরক্ক ত্রিপুরা (স্বতন্ত্র-আনারস), আ’লীগের-মো. আবদুল গণি (নৌকা), বিএনপির হাজী মো. ইয়াছিন মোল্লা। বেলছড়ি ইউনিয়নে আ’লীগের নজরুল ইসলাম (নৌকা), জাতীয় পার্টির ফিরোজ মিয়া (লাঙ্গল), বিএনপি’র মো. হারুনুর রশিদ (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন (আনারস)। বড়নাল ইউনিয়নে-আ’লীগের মো. আলী আকবর (নৌকা), বিএনপি’র মো. আবদুল মতিন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন  বাংলাদেশ দলের মো. মোস্তফা (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র মো. জামাল হোসেন (আনারস)। গোমতি ইউনিয়নে আ’লীগের মো. তফাজ্জল হোসেন (নৌকা), বিএনপির মো. আবুল ফজল ভূইয়া (ধানের শীষ)ও স্বতন্ত্র মো. ফারুক হোসেন (আনারস)। মাটিরাঙা সদর ইউনিয়নে-আ’লীগের হিরনজয় ত্রিপুরা(নৌকা), বিএনপির প্রবীন কুমার ত্রিপুরা (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র চন্দ্রবিকাশ ত্রিপুরা (আনারস)। তাইন্দং ইউনিয়নে-আ’লীগের মো. তাজুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন-নবীনা চাকমা (চশমা), মো. আমির হোসেন (রজনীগন্ধা), মো. হুমায়ুন কবির (আনারস)। তবলছড়ি ইউনিয়নে-আ’লীগের মো. আবদুল কাদের (নৌকা), বিএনপির মো. ইব্রাহিম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন-আবুল কাশেম ভূইয়া (আনারস) ও মো: কামরুল হাসান আমান (চশমা)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*