বৈসাবিতে ভিন্নধর্মী আয়োজন: ৭০জন বয়োজ্যোষ্টদের একসাথে স্নান-বস্ত্র বিতরণ

Boyojostaনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়িতে বৈসাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে জেলা সদরের ৯মাইল এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকালে নয়মাইল নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল মাঠে ওই এলাকার নতুন প্রজন্মরা  আনুষ্ঠানিক ভাবে এক সাথে ৭০জন বয়োজ্যোষ্টদের সারিবদ্ধ ভাবেস্নান ও বস্ত্রবিতরণ করেছে। যা এর আগে আর কখনো এ কর্মসূচি পালিত হয়নি এবং পাহাড়ের সংস্কৃতিতে যোগ হলো নতুনমাত্রা।

এর আগে বলতে হয়, ১৪এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ছিল ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিসিকাতাল উৎসব। এ উৎসব মূলত: নিজ নিজ ঘরে সন্তানরা মা-বাবাকে স্নান করিয়ে আশির্বাদ নেয়ার রীতি চলমান রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিমত, নতুন প্রজন্মের কাছে বয়োজ্যোষ্টদের   শ্রদ্ধার সহিত স্নান করার বৈসাবির এ রীতিটি আধুনিকতার ছোয়ায় যেন ম্লান হওয়ার পথে। তাই নতুন প্রজন্মকে নুতন চিত্তে, নুতন রূপে ও বয়োজ্যোষ্টদের শেষ জীবনে একটু ভালবাসা এবং সামাজিক ভাবে ঐক্যব্ধতার মধ্যে দিয়ে সম্মান  প্রদানের জন্য এলাকাবাসী ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এদিকে, বৈসাবিতে এমন  উদ্যোগ গ্রহণ ও কর্মসূচিটি পালনে জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ৭০জন বয়োজ্যোষ্টদের এক সাথে স্নান করার পর বস্ত্রবিতরণ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কৃষ্ণ কিশোর ত্রিপুরা, সমন্বয়ক সূর্যব্রত ত্রিপুরাসহ স্থানীয়রা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সমন্ময়ক সূর্যবত্র ত্রিপুরা বলেন, আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সাথে বড়দের স্নান করিয়ে আশীর্বাদ নেয়াটা জড়িয়ে আছে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ার কারণে এখন তা অনেক কমে আসছে। আমরা নিজ নিজ ঘরে সন্তানরা মা-বাবাকে স্নান করিয়ে আশীর্বাদ নেয়ার রীতি থাকলে আমরা এলাকার বয়োজ্যষ্ঠদের নিয়ে বড় পরিসরে এবার আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানের উপস্থিতপার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, এটি একটি ভীন্নধর্মী উদ্যোগ। বড়দের সম্মান করাটা এখন আর দেখা যায়না। নতুন প্রজন্মকে শেখানোর জন্য ও ভিন্নধর্মী কর্মসূচি আগামীতে অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*