৮মে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’র ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠান: আমন্ত্রণে বৈষম্য

cht complexমুহাম্মদ আবুল কাসেম:  ৮ মে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’-এর নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তুর অনুষ্ঠান।এ যেন তিন  পার্বত্যবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলছে। রাজধানীর বুকে এক খন্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপেক্স’ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ এ অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলা হতে যোগদানের জন্য সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির তালিকাভূক্ত করার বৈষম্য আনায় এ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে বলতে হয়, প্রেরিত আদেশে ভিত্তি প্রস্তুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা উল্লেখ করা হয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ৭এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখার উপ-সচিব বিদুষী চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’র ভিত্তি প্রস্তুর অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী’র ২শজনের (১শজন পুরুষ, ১শ মহিলা) তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৬মে ঢাকায় নেয়া, তাদের আবাসনসহ খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ বরাবর আদেশপত্র প্রেরণ করা হয়। আদেশপত্রে প্রস্তুতকৃত তালিকা ২০ এপ্রিলের মধ্যে আবশ্যিকভাবে উপসচিব বিদুষী চাকমা বরাবরে প্রেরনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

এদিকে, আদেশপত্র অনুযায়ী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ তালিকা প্রস্তুত করতে গেলে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা নিয়ে জেলা জুড়ে যেমনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তেমনি বিভিন্ন মহলে ওঠছে সমালোচনার ঝড়। হতাশা আর ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন অনেকেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতা সারোয়ার জাহান চরম হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি অশুভ প্রবণতা। পার্বত্যচুক্তিতে অনেক জায়গায় বৈষম্য থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র বাঙালি হবার কারণে কাউকে আমন্ত্রণ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার এই হীনমন্যতা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
‘পার্বত্য নাগরিক ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকারের এ ধরনের মহতি ও প্রশংসনীয় উদ্যোগে পাহাড়ি-বাঙালির সম্মিলন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ভেতরকার একটি অপশক্তি অনুষ্ঠানটিকে সম্প্রদায়গত বিভাজন করে সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাঁধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ বাতিল করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ কাজের অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলা থেকে সম-সংখ্যক পাহাড়ি-বাঙালি অর্ন্তভুক্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বিদুষী চাকমা বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এ আদেশ প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*