৬৩ বছরে পিএসসি পরীক্ষা দিলেন বাসিরন

basirunপার্বত্যবাণী ডেস্ক: মেহেরপুরের গাংনীর হোগলবাড়িয়া গ্রামে ৬৩ বছর বয়সে পিএসসি পরীক্ষা দিলেন বাসিরন খাতুন। তিনি একই গ্রামের মৃত রহিল উদ্দিনের স্ত্রী। ৩৫ বছর আগে স্বামীহারা হয়েছেন। এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।  একমাত্র ছেলে মহির উদ্দিনের সঙ্গে থাকেন তিনি। ছেলে মেয়েদের সন্তানরাও বড় হয়েছে। তারা এখন বিভিন্ন কলেজে ও বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে। লেখাপড়া প্রচণ্ড আগ্রহ থেকে তিনি নতুন করে আবার লেখাপড়া শুরু করেন। বাড়ি থেকে প্রতিদিন এক কিলোমিটার মেঠোপথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতেন তিনি।  রোববার তিনি হোগলবাড়িয়া মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম দিনের ইংরেজি পরীক্ষা দিলেন।
হার না মানা অদম্য আগ্রহী বাসিরন খাতুন জানান, আজকের ইংরেজি পরীক্ষায় আমি ৯৫ মার্কের উত্তর দিয়েছি। কত পেতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন লিখেছি এখন স্যাররাই ভালো জানেন? কত পাবো তাবে আমি সব সঠিক উত্তর লিখেছি। তিনি আরো বলেন, ছোট থেকেই তার লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে সংসার সন্তান নিয়ে লেখাপড়া করা হয়নি। সন্তানদের তিনি চেষ্টা করেছিলেন তারা যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। এর মধ্যেই মারা যায় তার স্বামী। ফলে সন্তানরা লেখাপড়াতে বেশি করতে পারেননি। তিনি আরো জানান, এরপর যখন নাতি নাতনিরা লেখাপড়া শুরু করলো তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এবার লেখাপড়া শুরু করবো। ৬ বছর আগে স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য বার বার স্কুলে যাওয়া আসা করে কিন্তু তখন মাস্টাররা তাকে ভর্তি করাননি। পরের বছর যখন আবার কয়েকদিন স্কুলে যায় তার পর আমার আগ্রহ দেখে সে বছর ভর্তি করে আমাকে।
বাসিরন বলেন, আমি তো মানুষ সব মানুষে যদি লেখাপড়া করতে পারে তাহলে আমি পারব না কেন। হয়ত আমি একটু কম পারব। কিন্তু পারবতো।
লেখাপড়া শিখে কি করার ইচ্ছা এমন প্রশ্নের জবাবে বাসিরন বলেন, আমি পিএসসি পাস করার পর গ্রামে গার্লস স্কুলে (মাধ্যমিক বালিকা) ভর্তি হবো। নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রামের গরিব ছেলে মেয়েদের বিনাপয়সায় পড়া শেখাবো। তিনি প্রতিবেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি বাসিরন কি ছিলাম আমি যেদিন অচল হয়ে যাব সেদিন বুঝবে।
প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, বাসিরন খাতুন ২০১০ সালে স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য কয়েকবার এসেছিলেন। বয়স্ক মানুষ মনের বাসনায় ভর্তি হতে এসেছেন। পরে ক্লাস করবে কি না এভেবে সে বছর তাকে ভর্তি করানো হয়নি। পরবর্তিতে যখন সে আবার আসে ২০১১ সালে তাকে ভর্তি করি। ভর্তি করার পর থেকে তার আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছি। প্রতিটি দিন সে ঠিকমত স্কুলে আসে। এমনকি বৃষ্টির দিনেও সে অনুপস্থিত হয়নি। গত বছর তার পিএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম না তাকে পরীক্ষা দেয়াবো কিনা। এবছর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে বাসিরনের আগ্রহের কথা জানালে তারা পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেন। আমার বিশ্বাস সে পিএসসি পাস করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*