৬দিন পরও উদ্ধার হয়নি খাগড়াছড়ি কলেজের ছাত্রী নুর নাহার

naharনিজস্ব প্রতিবেদক: অপহরণ মামলা রুজুর ৬দিন পরও খাগড়াছড়িতে হতে অনার্স পড়ুয়া কলেজ ছাত্রী ও ছোট মেরুং ২নং কলোনীর বাসিন্দা মোঃ নুর নবীর মেয়ে মোছাঃ নুরনাহার আক্তারের এখনো কোন হদিস মেলিনি। সিআইডি পরিচয়দানকারী মো. জালাল উদ্দিন কর্তৃক এ ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ এনে তাকে উদ্ধারের দাবীতে শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অপহৃতের মা জুলেখা বেগম, নানা আব্দুল মোতালেব, চাচাত ভাই মো: হাসান ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক এস এম মাসুদ রানা বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি নুর নাহারকে উদ্ধার ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী নুর নাহার প্রতিদিন দীঘিনালার মেরুং থেকে কলেজে যাতায়াত করে ক্লাস করতো। নুরনাহারের পিতা দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় পিতার ঔষধ নিতে গত ১ মে খাগড়াছড়ি আসে এই ছাত্রী। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয় । এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি থানায় অপহরণ মামলা রুজু করলেও ঘটনার ৬দিন পরও তার কোন হদিস মেলেনি।

nur naharতারা অভিযোগ করেন, ১-লা মে জালাল উদ্দীন হৃদয় নামে এক অপরিচিত যুবক তিন/চার জন সহযোগী নিয়ে নুরনাহার আক্তারকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের জিয়া ভাস্কর্য্যরে সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ৯টার দিকে নুরনাহার বাড়ি থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে আসে। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে যায়নি সে। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৮৬০৪৩৭৪৯৫) কল দিলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জালাল উদ্দীন হৃদয় নামে এক যুবক নুরনাহারের ছোট ভাই জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে ০১৮৮২৭৫২৭৭২ নাম্বার হতে কল দিয়ে জানায় যে, নুরনাহারকে সে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। আর এ বিষয়ে পুলিশকে কিছু জানালে তার বোনকে হত্যা করবে বলেও হুমকি দেয় ওই যুবক। এরপর ফোন কেটে দিলে বারবার চেষ্টা করেও ঐ নাম্বারে আর সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তারা আরো জানান, ২-রা মে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নুরনাহারের মা জুলেখা বেগম ও তার ভাই জহিরুল ইসলাম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে যায়। এসময় পুনরায় ঐ নাম্বার থেকে নুরনাহারের ছোট ভাই জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দেয় ঐ যুবক। তখন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিনের সাথে নুরনাহারের কথা হয়। নুরনাহার ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনকে জানায়, বরিবার বেলা ১২টার দিকে সে জেলা শহরের নারিকেল বাগানস্থ হ্যানিম্যান হোমিও হল থেকে পিতার জন্য ঔষধ নিয়ে বের হবার পর জিয়া ভাস্কর্য্যরে সামনে আসলে জালাল উদ্দিন হৃদয় নামের ওই যুবকসহ তিন/চার জন সহযোগী মিলে তাকে অচেতন করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অচেতন থাকায় তাকে কোথায় নিয়ে গেছে তা বলতে পারেনা জানিয়ে নুরনাহার জানায়, তাকে একটি ভবনে আটকে রাখা হয়েছে। ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে ওই যুবক তার কাছ থেকে ফোন ছিনিয়ে নিলে আর কথা বলতে পারেনি তারা।

bondo cidনুরনাহারকে অপহরণ করার আগে বেশ কয়েকদিন ধরে জালাল উদ্দীন হৃদয় নামে ওই যুবককে নুরনাহারের কলেজ যাতায়াতের পথে এবং তাদের এলাকায় ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। নুরনাহার বিষয়টি আঁচ করতে পেয়ে বিষয়টি তার মা জুলেখা বেগমকে জানায়। এরই মধ্যে ওই যুবক গত শুক্রবার বিকেলে নুরনাহারদের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের কাছে পানিও চেয়ে খেয়েছিলো। ঐসময় তার পরিচয় জানতে চাইলে নাম জালাল উদ্দীন হৃদয় বলে জানায় সে। সেই সাথে নিজেকে সিআইডি বলেও পরিচয় দেয় সে।

অপরদিকে, এ বিষয়ে নুরনাহারের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গকে জানানোর পর তারা আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিলে প্রথমে তারা দীঘিনালা থানায় যায়। তবে ঘটনাস্থল খাগড়াছড়ি জেলা সদর হওয়াতে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের সদর থানায় যাওয়ার জন্য বলে। পরে মঙ্গলবার বিকেলে নুরনাহারের মা বাদী হয়ে জালাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের তিন/চার জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলা দায়েরের ৬দিন অতিবাহিত হতে চললেও এখনো পর্যন্ত অপহৃত নুরনাহারের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*