৩ মাস ১২ দিন পর রাঙামাটি সরকারি কলেজে পাঠদান শুরু হচ্ছে আজ

ranga. govtনিজস্ব প্রতিবেদক: কলেজ ছাত্রলীগ ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনায় পাঠদান কার্যক্রম প্রায় ৩মাস ১২দিন বন্ধ থাকার পর আজ (শনিবার) ৩০ জানুয়ারি থেকে রাঙামাটি সরকারি কলেজে পাঠদান শুরু হচ্ছে। গত বছর ১৭ অক্টোবর ঘটনার পর কলেজের অন্যান্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এতোদিন শ্রেনী পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

বুধবার (২৭ জানুয়ারী) রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেনী পাঠদান কপার্যক্রম শুরু লক্ষ্যে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল কমিটির এক বৈঠকে ৩০ জানুয়ারী থেকে কলেজের পুরোপুরি শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজ আহমেদ জানান, গত বছর ১৭ অক্টোবর রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজে ছাত্রলীগ ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনিদিষ্টকালের জন্য কলেজের যাবতীয় শ্রেনী পাঠদান কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

এদিকে কলেজ খোলার সিদ্ধান্তকে কলেজ ছাত্রলীগ স্বাগত জানিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ বলেন, “আমরা আগে থেকেই সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থে কলেজ খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম। দীর্ঘদিন পর হলেও কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাই। আশা করছি, এখন থেকে নিয়মিতভাবেই শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহাদ বলেন, ‘কলেজ খুলে দেওয়ার মাধ্যমে রাঙামাটি সরকারি কলেজ আবারো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র বহন করার সিদ্ধান্তটিও সঠিক বলে আমরা মনে করি। কলেজে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী উপকৃত হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা-ও কমে আসবে। আমরা চাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস।’

তবে  কলেজ খোলার সিদ্ধান্তকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল সমর্থন করলেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নেতারা। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নেতা সৌমিত্র চাকমা বলেন, ‘কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত তো শিক্ষার্থীদের জন্য খুব ভালো সিদ্ধান্ত। তবে মামলা প্রত্যাহার না করে কলেজ খোলার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। কারণ, মামলার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারবে না। আমাদের নেতাকর্মীদের অনেকেই মামলার আসামি। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাব, কলেজের সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে যেন আমাদের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*