১০মাস পর ফের তালার রাজনীতি! আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া দুই গ্রুপ

খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগ অফিসের তালা জোর পূর্বক ভাঙ্গা দুর্বলতা ও সন্ত্রাসীর সামিল : সংবাদ সম্মেলনে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

bisnuমুহাম্মদ আবুল কাসেম: আবারো খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীগের দুটি গ্রুপে দলীয় কোন্দল চরমে ।  শুরু হয়েছে দলীয় অফিসের দখল ও তালার রাজনীতি। দীর্ঘ ১০ মাস তালাবদ্ধ খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন আলোচিত নেতা জাহেদুল আলম (সাধারন সম্পাদক) ও তার অনুসারীরা।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার দিকে তিনি ও তার অনুসারীরা দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জেলায় দীর্ঘদিনের জাহেদ গ্রুপ ও এমপি গ্রুপের মধ্যে মারমুখী অবস্থান, স্নায়ু যুদ্ধ, বহিস্কার-আবিস্কার খেলাখেলি চলাকালে তালাবদ্ধ অফিসের দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী দুগের্র কোন্দল এখন চরমে।  স্থানীয়দের অভিমত, সৃষ্ট কোন্দল চলমানের পাশাপাশি দুটি গ্রুপই আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া। নতুন ভাবে তালার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি আওয়ামী ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূতিও ক্ষুন্ন হচ্ছে চরমভাবে।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক দলীয় পটকের তালা  জাহেদুল আলম ও তার অনুসারী জোর পূর্বক ভেঙ্গে অবস্থান নেয়াকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং রাজনৈতিক দুর্বলতার পরিচয় দেয়ার সামিল বলে আখ্যায়িত করে দুপুরে জেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে জেলা পরিষদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, আমি শান্তি ও উন্নয়নে বিশ্বাসী। জাহেদুল আলম সাধারন সম্পাদক পদ হারিয়ে জোর পূর্বক সন্ত্রাসী নিয়ে তালা ভাঙ্গার বিষয়ে তিনি আওয়ামীলীগের নতুন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেসহ স্থানীয় প্রশাসনের নিকট জানিয়েছেন  বলে জানান। তিনি বলেন, এমপি ও সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আমিও যদি অফিসমুখী হই তাহলে আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকা রয়েছে। কিন্তু আমি তা করব না। এখানকার প্রশাসন নিরপেক্ষ, প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।
সংবাদ সম্মেলন এমপি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জাহেদুল আলম সাধারন সম্পাদক পদ হতে বহিস্কার। তা আবারো নতুন ভাবে বলার কিছুই নেই। আওয়ামীলীগের কাউন্সিল পূর্বে ধানমন্ডিতে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগকে নিয়ে দলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল হানিফ তার পরিস্কার করেছেন, যার রেকর্ড আমার নিকট রয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সহানুভূতিতে জাহেদুল আলমকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে সম্মেলনে বসার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।  তাও ডেলিগেট কার্ডটি ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীর হাত হতেই সংগ্রহ করতে হয়েছে জাহেদুল আলমকে। সম্মেলনে অংশ গ্রহণ ও তার ফটো তুলে জেলার বিভিন্ন স্থানে টাঙানো ও দলীয় অফিসে জোর পূর্বক দখল এসব ঘটনায় প্রমান করে জাহেদুল আলম হীনমন্যতায় ভূগছেন। এসময় তিনি জাহেদুল আলমকে কেন্দ্রীয় ঘোষনামতে আওয়ামী রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকলে সাধারন সদস্য পদে আবেদন করার আহবান জানান।
তবে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচিত নেতা জাহেদুল আলম বলেন, ‘‘আমরা তালা ভেঙ্গে ঢুকলে আরো ৬-৭মাস আগে ঢুকতে পারতাম, আমরা তালা ভেঙ্গে ঢুকি নাই। দলীয় অফিসের চাবি ছিল ডিসি-এসপির কাছে। ডিসি সাহেব গতকাল আমাকে জানিয়েছেন যে, চাবি সভাপতির নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি (সভাপতি) যেহেতু অফিসে আসেন নাই, আমাদের ৩রা নভেম্বর পালন করার লক্ষ্যে অফিস ৬-৭ মাস বন্ধ থাকায় ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের জন্য অফিস খোলা হয়েছে”।  

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রণবিক্রম ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি ও পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক পাজেপ সদস্য নির্মলেন্দু চৌধুরী, সহ-সভাপতি চাইথোঅং মারমা, সহ-সভাপতি কল্যাণমিত্র বড়–য়া, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা পাজেপ সদস্য মংসুইপ্রু চৌধুরী(অপু), পাজেপ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মো. শামসুল হক, সদস্য আওয়ামীলীগে যোগদানকারী তবলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সাবেক পাজেপ সদস্য সাহাব উদ্দিন প্রমূখ।
চলতি বছরের ১লা জানুয়ারী শুক্রবার সকালে প্রথম তালা ঝুলানো হয়। বিকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শহরে শোডাউন দেয়। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মারমুখী অবস্থানের ফলে স্থানীয় প্রশাসন ২০জানুয়ারি তালাবদ্ধ করে দেন।
প্রসঙ্গত: ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে জাহেদুল আলমের ছোট ভাই বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম ও আওয়ামী প্রার্থী শানে আলমকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী দুর্গে জাহেদুল আলম ও এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নামে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পালনের মধ্যে দু’টি গ্রুপই নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া। গত বছরের ১লা জানুয়ারি প্রথম তালাবদ্ধ হয় জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়। পরে আবার খোলাখুলি হলেও ২০জানুয়ারী চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৬ ধারা জারি করে তালা ঝুলিয়ে দেয় দলীয় কার্যালয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*