সড়ক অবরোধেও টনক লড়েনি: পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ২য় বৈঠক অনুষ্ঠিত

land-commission1নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী বাতিলের দাবীতে ও কমিশনের ২য় বৈঠকের প্রতিবাদে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৫টি বাঙালি সংগঠনের ডাকে আজ (রোববার) সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি সরকার তথা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের টনক নড়েনি। এর আগেও হরতাল চলমান অবস্থায় যেমনি রাঙামাটিতে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অপরাপর সদস্যরা বৈঠক করেছেন তেমনি আজও দুই জেলায় অবরোধ চলাকালে ২য় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।

স্থানীয় সাধারন জনগনের মতামত, ভূমি কমিশনের বৈঠক এবং পাহাড়ের ৫ বাঙালি সংগঠনের চলমান আন্দোলনে এখানকার স্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠার সূত্রতায় প্রকটভাবে পারস্পরিক অবিশ্বাসের ধানা বাঁধছে। বিষয়টি নিয়ে যথাশীঘ্রই রাষ্ট্রীয় কোন প্রকার সুরাহা না আসলে যে কোন মুহুর্তে পাহাড় আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে!  তাছাড়াও কমিশনের এই সংশোধনীকে এখানকার স্থানীয় বাঙালিরা অস্তিত্বের সংকট বলে আন্দোলন করে আসলেও পাহাড়িরা এ বিষয়ে এখনো নীরবতা পালন করছে।

আমাদের রাঙামাটি সংবাদদাতা জানান, রোববার বেলা পৌনে ১১ টার সময় রাঙামাটি সার্কিট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধন আইন-২০১৬ গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়া পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদে আইনটি পাশ হওয়ার পর কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা রাঙামাটিতে রোববার দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ার উল হক। এছাড়া বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যা শৈ হ্লা রোয়াজা, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, বোমাং সার্কেল চীফ উচা প্রু চৌধুরী, মং সার্কেল চীফ সা চ প্রু চৌধুরী, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মামুনুর রশিদ আমিন, ভূমি কমিশনের সচিব রেজাউল করিম, এবং রেজিস্ট্রার শোয়েব খান।

বৈঠকের বিষয়ে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেন, পাহাড়ের বাঙালিদের অস্তিত্ব রক্ষার দাবীতে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ রোববার সকালে কমিশনের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার আস্তানা রাঙামাটিতে ২য় বারের ন্যায় বৈঠক করে তামাশা সৃষ্টি করেছেন। এ কমিশনের প্রতি বাঙালিদের কোন আস্থা না থাকায় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের সাংঘর্ষিক এমন সংশোধনী আনায় পার্বত্য বাঙালিরা কমিশনের সকল কার্যক্রমকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেছেন। বাঙালিদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলাবস্থায় এ ধরনের বিতর্কিত বৈঠক পার্বত্যাঞ্চলে জাতিগত সংঘাতকেই উস্কে দেয়ার একটি অপকৌশল চালিয়ে সন্তু লারমারা পাহাড়ের বাঙালিদের অস্তিত্বে আঘাত হেনেছে।

প্রসঙ্গত: গত ৪ সেপ্টেম্বর একই স্থানে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই দিনেও তিন পার্বত্য জেলায় ৫টি বাঙালি সংগঠন হরতাল কর্মসূচি পালন করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*