স্বল্প সময়ে সুনাম বয়ে এনেছে খাগড়াছড়ির অ-উপজাতি ছাত্রাবাস: এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

IMG_5842নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেছেন, স্বল্প সময় তথা ৪বছরের মধ্যেই উপজাতি ছাত্রাবাসের তুলনায় অ-উপজাতি ছাত্রাবাসটি সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যা খাগড়াছড়ির উপজাতি ছাত্রাবাসটি পারে নাই। বর্তমানে উপজাতি ছাত্রাবাসটির অবকাঠামোতে চলছে বিয়াম স্কুল।

তিনি (রোববার) রাতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সবুজবাগস্থ অ-উপজাতি ছাত্রবাসে অনুষ্ঠিত এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বিদায়-২০১৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে পুর্ববর্তী বক্তাদের বক্তব্য শ্রবন করে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা একই মায়ের অভিন্ন সন্তান। বর্তমান সরকার উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় সম্পৃক্ত করতে উপজাতি ও অ-উপজাতিদের সমান অধিকারের আলোকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে জেলা শহরে একমাত্র অ-উপজাতি ছাত্রাবাসটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এসময় তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা বান্ধব বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনায় শিক্ষাখাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা অন্য কোন সরকার করতে পারেনি। বর্তমান সরকারের দুরদর্শিতায় নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গঠন ও ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। তিনি ছাত্রাবাসের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন সময় নিজেকে প্রস্তুত করার সময়। তিনি সকলকে দেশের প্রতি আনুগত্যশীল হয়ে আদর্শবান হতে বিবেকেক জাগ্রত করে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহবান জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক ও খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের প্রভাষক এম রাশেদুল হককে তার কর্মদক্ষতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আ: রহমান তরফদার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাতা হলেন বর্তমান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। তিনি যখন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন তারই নেতৃত্বে জেলার দুর-দুরান্ত এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে ১০লক্ষ টাকার ফান্ড দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করা হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল, স্টাফ খরচ, কর্মচারীর স্বল্পতা, পানির বিল সহ নানা কারনে প্রতিষ্ঠানের ফান্ড শূণ্য হওয়ার পথে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের স্বল্প দিনের সুনাম ও ফান্ড গঠনে সমাজের ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

chatrabasএসময় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে খাগড়াছড়ি সেনা জোন কমান্ডার লে:কর্ণেল হাসান মাহমুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অনগ্রসর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কল্যানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ করছে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্র পানছড়ির মো. আনোয়ার হোসেনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও খরচাদি খাগড়াছড়ি রিজিয়ন থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়ে আগামীতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন।

প্রভাষক এম. রাশেদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিসাব নিরীক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক আবু তাহের মুহাম্মদ প্রমূখ।

প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক এম. রাশেদুল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, খাগড়াছড়ি অ-উপজাতি ছাত্রাবাসের ছাত্ররা স্বল্প সময়ে জেলায় সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৪ সালে খাগড়াছড়িতে একমাত্র জিপিএ-৫ ধারীদের মধ্যে একজনই ও ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ধারী ৩জনের মধ্যে দুইজন এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান চলছে খুবই আর্থিক দৈন্যতায়। এসময় তিনি অ-উপজাতি ছাত্রবাসের সীট সংকলন ও জেলার দুর-দুরান্ত থেকে পড়ুয়া ছাত্রী ও বাল্য বিবাহ রোধে ছাত্রাবাস কমপ্লেক্সে ছাত্রী নিবাস প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধান অতিথি’র দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে খাগড়াছড়ি অ-উপজাতি ছাত্রাবাসে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গরীব পরিবারের ৬০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। যার মধ্যে বর্তমানে ১৭জন এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী। সীট সংকুলান থাকায় শতাধিক আবেদন পত্র এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে শেষ পর্বে খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে অ-উপজাতি ছাত্রাবাসের পক্ষ হতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*