স্ত্রীর পরকীয়ার বলি প্রবাস ফেরত স্বামী মমিনুল: পুলিশী তৎপরতায় রহস্য উন্মোচন- স্ত্রীসহ আটক-৫

khun ramনিজস্ব প্রতিবেদক: মৃত্যুর তিন মাস পর পুলিশী তৎপরতায় বেরিয়ে এলো মোমিনুল হক নামে এক সৌদি প্রবাস ফেরত স্বামীর মৃত্যুর কারন। স্ত্রী’র পরকীয়ায় বলি হয়েছেন  এই প্রবাস ফেরত স্বামী। প্রায় তিন মাস আগে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় তিনি খুন হন। তখন তার লাশের পরিচয় গোপন থাকলেও মঙ্গলবার খুনের মূল পরিকল্পনাকারী তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও তিন ভাড়াটিয়া খুনীকে আটকের পর পুলিশের কাছে এ তথ্য জানায় তারা। নির্মম ভাবে খুন হওয়া নিহত মোমিনুল হক রামগড়ের পূর্ব চৌধুরীপাড়ার মৃত রবিউল হোসেন সওদাগরের ছেলে। ২০০১ সালে রাবেয়ার সাথে মোমিমুল হকের বিয়ে হয়। তাদের সাংসারে ৯ বছর বয়সী মো: আলী নামে এক ছেলে ও রহিমা আক্তার নামে ১৪ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। নিহতের মোমিনুল হক ৬ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে সবার বড়।

পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদের মূল পরিকল্পনার স্বীকারোক্তি স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় তাকে ভাড়াটিয়া কিলাররা হত্যা করা হয়েছিল তা-ও আবার স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায়। মঙ্গলবার আটকের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত গুইমারার ফিরোজ (২২), আবুল কালাম (২১) রামগড় চৌধুরী পাড়ার সাইফুল ইসলাম (২৩) ও বাবুল (৪৫) অকপটে খুনের সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, রাবেয়া বেগমের সঙ্গে এক লাখ টাকা চুক্তিতে সৌদি প্রবাসী মুমিনুল হককে খুন করা হয়। এদেরকে গুইমারা ও ফেনীতে অভিযান চালিয়ে আটক করে পুলিশ।

khagrachari  pic 30-04-2016 (1)গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তফিজুর রহমান জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি চন্দ্ররঞ্জন কার্বারীপাড়া এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্বার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন তদন্তে জানা যায়, ওই লাশটি জেলার উপজেলার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মুমিনুল হকের (৪০)। কিন্তু রাবেয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার স্বামী বিদেশে গমন করে বলে জানান। অবশেষে সোমবার পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে রাবেয়া বেগমকে এবং পরে তার স্বীকারোক্তিতে অপর তিনজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঘাতক দুই সন্তানের জননী রাবেয়া বেগম জানান, তার স্বামী মুমিনুল হক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে দেবর একরামুল হকের সঙ্গে তার দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি দেশে ফেরার পর স্বামী বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কয়েকদফা ঝগড়া হয়। শেষ পর্যন্ত পরকীয়ার পথ পরিষ্কার করতে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোনের ছেলে ফিরোজের সঙ্গে এক লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়। স্বামীকে হত্যার পর ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন রাবেয়া। আর এ টাকা ছিল বিদেশ থেকে স্বামীর পাঠানো।

ফিরোজ জানায়, সে চুক্তি করে গুইমারার কালামের সঙ্গে। কালাম জানায়, সে তার চাচাতো ভাই ফেনীর মিঠুর সঙ্গে চুক্তির করে।

ফিরোজ জানায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি মুমিনুল হককে গুইমারায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসে। রাত ১১টার দিকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলে মুমিনুল হককে মোটরসাইকেলে করে বাইল্যাছড়ির রবীন্দ্র কার্বারীপাড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে ফিরোজ ও সাইফুল মুমিনুল হকের পা ও কামাল মাথা চেপে ধরে। মিঠু চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

সাইফুল জানায়, এক লাখ টাকা চুক্তি হলেও হত্যাকাণ্ডের পরের দিন ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। আর এ টাকা মিঠু ও কালাম ভাগ করে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*