স্কুলবিহীন ৭গ্রামে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ করলেন পাজেপ সদস্য খগেশ্বর

3831নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বৃহত্তর ৫নং ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের দুর্গম ও স্কুলবিহীন ৭টি গ্রামের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরা। তিনি আজ (মঙ্গলবার) সকালে খাগড়াপুরস্থ নিজ বাসভবনে জাবারাং এনজিও পরিচালনায় মাতৃভাষা ভিত্তিক ‌‘শিশুর ক্ষমতায়ন প্রকল্প’ অধিন ৩টি প্রি-স্কুলের শিক্ষকদের ৩মাসের বেতন বাবদ ৯হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। নগদ অর্থ গ্রহণ করেন আলমনি পাড়া প্রি-স্কুল শিক্ষক নজলাল ত্রিপুরা, জনুপ্রহর প্রি-স্কুল শিক্ষক নিহারিকা চাকমা ও ক্ষেতলাক প্রি-স্কুলের শিক্ষক নেনিকা ত্রিপুরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাবারাং এর প্রকল্প সমন্বয়কারী খোকন বিকাশ ত্রিপুরা, জাবারাং দিঘীনালা উপজেলার প্রকল্প কর্মকর্তা বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গীতিকা ত্রিপুরা ও ফিল্ড অফিসার বিভাবসু ত্রিপুরা। নগদ অনুদান প্রদানকালে দাতা পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, অনগ্রসর পশ্চাৎপদ এলাকা শিক্ষায় আলোকিত করায় বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অংগীকার। তাই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ অর্থ বিতরণ করেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, গতবছরের ২২ডিসেম্বর তিনি জাবারাং এর একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রি-স্কুল সমূহের সমস্যা উপলব্ধি করে নগদ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেছিলেন। এসময় তিনি স্কুলবিহীন সাতটি গ্রামের প্রায় ৪শতাধিক পরিবারের শিশুদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আলমনি পাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আকারে আবেদন করার পরামর্শ প্রদান করেছেন। জাবারাং এনজিও’র প্রকল্প সমন্বয়কারী খোকন বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, মাতৃভাষা ভিত্তিক শিশুর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের অধিন খাগড়াছড়ি সদর, দিঘীনালা ও মহালছড়িতে প্রি-স্কুল গড়ে ওঠে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ ধরনের প্রি-স্কুলের সংখ্যা ছিল প্রায়-৬২টি। অর্থাভাবে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ৩৭টি স্কুল। চালুকৃত স্কুলগুলোও চলছে খুবই কষ্টসাধ্যে। তিনি শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরার এমন সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের আলমনি পাড়া, রবিধন পাড়া, শ্যামবাড়ী, নবকুমার পাড়া, শিবমন্দির, কাপতলাসহ ৭টি গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে না ওঠায় হতাশা ব্যক্ত করেন। স্বাধিনতার দীর্ঘ বছর পরও এই সাত গ্রামে সরকারি ভাবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় এসব এলাকায় শিক্ষার হার খুবই কম। তিনি অবিলম্বে এ সাতটি গ্রামের ৪শতাধিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরুরী ভিত্তিতে আলমনি পাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনে খাগড়াছড়ি সাংসদ ও পাজেপ চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ির দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*