সাফল্যের বাংলাদেশ ও বেহেস্তকামী আত্মঘাতি

                                                                                                                                                                        ওমর ফারুক শামীম

o Shamim   সৃষ্টির শুরু থেকেই মানবজাতি বিভিন্ন মতে-পথে বিভক্ত ছিলো, এখনো আছে। এভাবেই চলছে কালের স্রোত। মানুষ এখন সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ চষে বেড়ায়। মাটির পৃথিবী জয় করে এখন ব্রম্মান্ড জয়ের চেষ্টা চলছে। সভ্যতার ঊষালগ্নেও মানুষের মাঝে ধর্ম নিয়ে আলো আধারের মতো দ্বিমত ছিলো। বহুমত পথের পার্থক্য নিয়েই কালের খেয়া পাড়ি দিয়ে চলছি আমরা। কেউ কাউকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। চলছে সবাই সবার নিজস্ব গতিতে।

কালের স্রোত যেমনি বহমান, ধর্মের প্রতি মানুষের বিশ্বাস তেমনি অনন্ত কাল ধরে বহমান। আমরা দেখছি ধর্মের পাশেই অধর্মের বসতি। ধর্ম নিয়ে রয়েছে নানা রকমের দ্বিধা-বিভক্তি। ধর্ম আছে বলেই আমরা ধর্মকে চিনতে পারি। বিজ্ঞানের আকাশচুম্বি অগ্রগতির পরও কালের স্রোতে ধর্ম বয়ে চলেছে স্ব-বৈশিষ্টে। অবিশ্বাসীরাও একসময় ধর্মকে আঁকড়ে ধরে, যখন তিনি বার্ধক্যে যেতে থাকেন। পরলৌকিকতা বিশ্বাস না করলেও জীবন সায়াহ্নে গিয়ে তারা ভাবতে থাকেন এরপর কী ? বা মৃত্যুর পর কী ? তখনই ধর্ম জেগে উঠে সেসব বিবেকের ঘরে। মানুষ তখন ধর্মকেই আঁকড়ে ধরে। এজন্যেই বিশ্বব্যপী ধর্ম অশেষ অসীম অনস্বীকার্য এক অনন্য মাধ্যম হয়ে বয়ে চলেছে সকল সম্প্রদায় ও সকল গোত্রের মাঝে। তাই এই ধর্মকে পুঁজি করেই চলছে ভিন্ন মত আর পথের পার্থক্যের লড়াই।
বহুকাল থেকে আমরা দেখছি, ধর্মকে যখনি পার্থিব ব্যবহারের অস্ত্র হিসেবে তৈরী করা হয়, তখন এই অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় বিপদজ্জনক শক্তি সম্ভারের মহাপর্বত। তখন কিসের পরমাণু বোমা, কিসের কী ? এর চেয়ে শক্তিশালী আর কোন বোমাই এর প্রতিদ্বন্দ্বি হতে পারেনা। বর্তমানে অসীম শক্তি সম্ভারের এই বোমাটিকেই ব্যবহার করছেন বিশ্বের শাসক শ্রেণীর কূটনৈতিক কিংবদন্তীরা। যাদের স্বল্প বুদ্ধিতে মুহুর্তেই বিভিন্ন দেশের চিত্র পাল্টে যায়।

বিশ্বে গত তিন দশক থেকেই মুসলমানদের মাঝে ধর্ম নিয়ে সহিংসতা অব্যাহত আছে। একই ধর্মের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের মাঝে চলছে পারস্পরিক সংঘাত। যে সংঘাতের নৃশংসতা ইসলামী সভ্যতাকে কুঁড়িয়ে কুঁড়িয়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর সঠিক সমাধানে কোন উদ্যোগই স্থায়িত্ব লাভ করছেনা। কারন পরাশক্তির কূটনৈতিকরা দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমেই ধর্মের খোলসে ষড়যন্ত্রের বীজ বপণ করে চলেছে। যে ষড়যন্ত্র থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারছিনা। কোথাও ক্ষমতার লোভে আবার কোথাও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে কৌশলে। ইসলামের অনুসারীদের যত মত আর পথ থাকুক না কেনো হত্যা, আতœহত্যা বা নৃশংসতাকে কখনোই বৈধতা দেয়া হয়নি এই ধর্মে। যে ধর্মে কুসংস্কার আর গোড়ামি নেই, যে ধর্মে জীবনাচরনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যুক্তিনির্ভর ও কল্যাণমুখী নির্দেশনা রয়েছে সে ধর্মটিই হচ্ছে ইসলাম ধর্ম বা শান্তির ধর্ম।

এক সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিছু কুসংস্কার থাকলেও প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) পৃথিবীতে আসার পর এসবের যৌক্তিক সমাধান হয়েছে। এখন যে সকল কুসংস্কার বা গোড়ামি ইসলাম ধর্মে জড়িয়ে দেয়া হয়েছে এ সবই ইসলাম বিদ্বেষী কুটনৈতিকদের দীর্ঘ পরিকল্পনার কূৎসীত উপকরণ। মুসলিম বিশ্বের সহজ সরল অনেক মুসলমানরাই ধর্মের নামে অধর্মের আবরণ গায়ে জড়িয়ে নিয়েছে নিজেদের অজান্তে। যে সব মতবাদ ইসলাম বিদ্বেষীরা দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সুকৌশলে ধর্মীয় পুস্তকে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে এসবের প্রসার ঘটিয়েছে মুসলিম বিশ্বে। অনেক মুসলমানের মস্তিস্কে মজ্জাগত হয়ে গেঁড়ে বসেছে ধর্মের নামে অধর্মের এসব উপকরণ। সারল্যতা আর অতিবিশ্বাসের ফলে এসবের বৈপরীত্য কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা ঐসব ধার্মিকেরা। যেই বিশ্বাসের কাছে যুক্তি হার মানছে বার বার। সারা পৃথিবীর ইসলামি বিশ্বে চলছে এই দ্বি-মতের রক্তক্ষয়ি যুদ্ধ। যে যুদ্ধে জমছে শুধু লাশের পাহাড়। কোন সমাধান কিংবা সমাপ্তির লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। মুসলিম বিশ্বের সোনালী জমিন যেন লাশের কফিনে পরিণত হচ্ছে প্রতিদিন। ভ্রাতৃঘাতি এই দন্দ্বের প্রলয়ংকরি যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে চলছে পরাশক্তির কূটনৈতিকরা। যা এখন আমাদের বিস্মিত সাফল্যের বাংলাদেশের দিকে ধাবমান। স্বার্থ হাসিলের রাজনীতির ফাঁকে আমাদের দেশেও ঢুকে পড়ছে এই দন্দ্ব। পরাশক্তিরা বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনীতির ফায়দা লুটতে সরল বিশ্বাসী মুসলমানদের কৌশলে নামাচ্ছে এই ধর্মযুদ্ধে। যা কিনা চরম সংশয় আর আতঙ্কের প্রতিধ্বণি শোনাচ্ছে আমাদের। আমরা এখন ভীত সন্ত্রস্ত যে, ভ্রাতৃঘাতি এই যুদ্ধ আমাদেরকেও গ্রাস করছে কিনা ?
পাকভারত ও বাংলায় একসময় ইসলাম ধর্মের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যের ইতিহাস সহস্রাব্দের মানবইতিহাসকে আলোকিত করে। সেই আলোকিত ইসলামের ইতিহাসকে কলংকিত করে মুসলমানদের বিশ্বে চলছে এখন নারকীয় বর্বরতা। মুসলমান মুসলমানকে হত্যা করছে পশুর মতো। প্রতারণার ধর্মজালে পড়ে অনায়াসে আতœাহুতি দিচ্ছে বেহেস্তকামী একশ্রেণীর সহজ সরল মুসলমানরা। গত এক দশক আগে থেকেই জিহাদ আর আতœঘাতি যুদ্ধের এই নির্মম নৃশংসতা দেখে আসছি আমরা। মহান আল্লাহর প্রতি চরম বিশ্বাসী এই মানুষগুলি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করছে ইসলাম ধর্ম ও তার মূলনীতি বাস্তবায়নের জন্যে। তাদের এই জিহাদ বা যুদ্ধ সম্পর্কে যে ভাষাতেই বলিনা কেন তা কতোটা ইসলাম সম্মত? তারা না জানলেও সচেতন মুসলমানরা অবশ্যই জানেন। তবে তারা যে কূটনৈতিকদের রাজনৈতিক স্বার্থের সর্বোচ্চ সামরিক অস্ত্র সেটি হয়তো জানেন না। তবে তারা অনেক বেশী শক্তিশালি। কারণ তারা আতœঘাতি বেহেস্তকামী। মুহুর্তেই শতজনকে ধ্বংস করে কথিত বেহেস্তে পাড়ি জমাবে তারা।
এবার বলছি সাফল্যের বাংলাদেশের কথা। গত এক দশক আগে থেকেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে জঙ্গি তৎপরতা শুরু হয়েছে। দেশের যে রাজনৈতিক দলটি জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন তারা এখন জঙ্গিদের কোলেই আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বেঁচে আছেন। এটা একবারে স্পষ্ট। আমরা দেখতে পাই পাল্টপাল্টি রাজনৈতিক দন্দ্বের বক্তৃতায় একটি দল সরকারকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকী দিয়ে থাকেন। বৃহত এই দলটি বড় বড় ইস্যুতে জনসম্পৃক্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলেও ভয়াবহ ঘটনা সংঘটন করতে পিছপা হন না। তাদের রয়েছে ভয়াবহ ধর্মবোমা। যা দিয়ে মুহুর্তেই গোটা দেশ তছনছ করে দেয়া সম্ভব। তারা তাদের এই শক্তি সম্পর্কে বহুবার জানান দিয়েছে। তবে তারা জানে এই অস্ত্র বা পদ্ধতি এদেশের সাধারণ মানুষ পছন্দ করেনা বা কখনো গ্রহণ করবেনা। শুধুমাত্র সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিশেষ বিশেষ সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী পরাশক্তিদের পরামর্শে এই ধর্মবোমাকে ব্যবহার করে থাকেন, আর ইতিহাসকে কলংকিত করেন। দলটির নেতারা রাজনৈতিক দন্দ্বে সরকারকে ভয়াবহ পরিণতির কথা শ্মরণ করিয়ে দেয়। আর সুযোগ বুঝেই তাদের ঘটন পটিয়সীরা ঘটায় নৃশংস ঘটনা। সম্প্রতি আইনজীবি এক নেতা সরকারকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন ভয়াবহ পরিণতির কথা। আবার পহেলা জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে আরেক নেতা বলেছেন দেশে গণতন্ত্র ফিরে না আসলে আবারো জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। দেশবাসিকে এই নেতা কী বার্তা দিচ্ছেন তা এখন স্পষ্ট।
গেলো ডিসেম্বরে বিদেশি হত্যাকান্ড ইস্যুতে জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত বার্ণিকাট বলেছিলেন, তাদের কাছে জঙ্গিদের সব রকমের তথ্যই আছে, বাংলাদেশ সরকার জঙ্গি দমনে আগ্রহী হলে এবং আমেরিকাকে সাথে নিয়ে কাজ করলে জঙ্গি দমনে সরকার সফল হবে। সরকার আমেরিকানদের ভূ-রাজনীতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে উপযুক্ত সময়ে তাদেরকে হুঁশিয়ার করেছেন। পরাশক্তির এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমরাও কম বেশি সচেতন। তবে এই শক্তি যে আমাদের মাঝে বিশাল শক্তির ধর্মবোমা তৈরী করে রেখেছেন তাতে আমরা চরম শংকিত ও আতঙ্কিত।

এদিকে দেশে জঙ্গি দমন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশের গণমাধ্যম জঙ্গি দমনে ভুমিকা রাখছেনা। আমি স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষন করি। একথা সত্যি যে, দেশের গণমাধ্যমের জঙ্গি দমনে আহামরি উল্লেখযোগ্য কোন ভুমিকা নেই। এর কারণ জঙ্গিদের ইস্যু তৈরী হয় ধর্ম নিয়ে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় মনে করেই এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আবার একই ধর্মের রয়েছে বহু মত ও পথ। সাংবাদিকরা যেহেতু সামরিক বাহিনী নয় তাহলে এমন আতœঘাতিদের বিষয়ে গণমাধ্যম কী ভুমিকা নিতে পারে। তারপর একের পর এক হত্যা আর হুমকিতো অব্যাহত আছেই। এই লেখাটি লিখতে গিয়ে আমারও বুক কাঁপছে থরথর করে। ওরা কী মনে করে কখন যে কী করে ? আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আর দায়বোধের কথা বিবেচনা করে না লিখে পারলামনা। একাত্তরে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ ৪৪ বছরে এসে এখন উর্বশী। গত এক দশকে বাংলাদেশকে নতুন করে দেখছে বিশ্ববাসী। সাফল্যের কমতি নেই। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি, পরমাণু চুল্লি, পদ্মাসেতু, স্যাটেলাইট উপগ্রহ সব মিলিয়ে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশ। তবুও সামনে মহাবিপদ। কারণ পরাশক্তিরা আমাদের স্বনির্ভরতা চায়না। দেশীয় রাজনৈতিক দন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে সাহায্যনির্ভর করে রাখতে চায়।
চার দলীয় জোট আমলে যেখান থেকে উৎপত্তি হয়েছিলো ধর্ম বোমার রসদ, কদিন আগে রাজশাহীর বাগমারার সেখানেই ঘটলো আতœঘাতি হামলার ঘটনা। অশুভ শক্তি আবার জানান দিলো তাদের শক্তির অস্তিত্ব। এই বিধ্বংসি শক্তি মোকাবিলায় সরকারকে বুঝে শুনে রয়ে সয়েই এগুতে হবে। কারণ সাফল্যের আরো অনেক পথ বাকি।

এবারে বেহেস্তকামী আতœঘাতিদের প্রতি সম্মান রেখে কিছু আলোচনা করছি। ইসলাম কি আসলেই যুদ্ধ বা তরবারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ? নাকি, শান্তি, সম্প্রীতি, উদারতা, ত্যাগ আর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে পৃথিবী জয় করেছিলো। অনেকের ধারণা- ইসলাম প্রচারে তলোয়ারের ও যুদ্ধ-বিগ্রহর উপরই বেশী নির্ভর করা হয়েছে। আসলে এই তথ্য সঠিক নয়। ইসলামের ইতিহাস একথা বলেনা। ৯ম হিজরীর রজব মাসে সংঘটিত তাবুক যুদ্ধ ছিল রসূলুল্লাহ (সা:)-এর জীবদ্দশার শেষ যুদ্ধ। রসূলুল্লাহ (সা:)-এর জীবদ্দশায় ২৭টি যুদ্ধ ও যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাছাড়া ছোটখাট যুদ্ধ ও নৈশ অভিযান যার সংখ্যা ছিলো ৬০টি; আরও কতগুলো যুদ্ধ সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়নি। রসূলুল্লাহ (সা:)-এর জীবদ্দশায় জিহাদ হয়েছিল ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যে। সব যুদ্ধই ছিলো প্রতিরক্ষামূলক, আক্রমণাতœক নয়। এসব যুদ্ধাভিযান, রসূলুল্লাহ (সা:)-এর নির্দেশ ও পরিচালনায় হয়েছিল, তাতে যে পরিমাণ রক্তপাত হয়েছিল, এযাবৎ সংঘটিত একটি যুদ্ধের সহস্রভাগের সমান রক্তপাতের ঘটনাও খুঁজে পাওয়া যায়না। রসূলুল্লাহ (সা:)-এর সময়কার সমগ্র যুদ্ধের ইতিহাসে এর চেয়ে কম রক্তপাতের ইতিহাস পাওয়া যায়না। শুনতে খুবই অবিশ্বাস্য শুনাবে যে এসব যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা মাত্র দেড় থেকে দুই হাজারের বেশী নয়, তাও এ সংখ্যায় উভয় পক্ষের নিহতেরাই অন্তর্ভুক্ত। ঐসব যুদ্ধের ওপর রসূলুল্লাহ (সা:)-এর যেসব নৈতিক শিক্ষা ছিলো যে, তোমরা আল্লাহর নামে যুদ্ধরত হবে এবং আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যারা আল্লাহর সাথে কুফুরী করেছে। কোন শিশু, নারী, অসহায় বৃদ্ধ কিংবা খানকাহ, গীর্জা, মঠ, মন্দিরের ধর্মীয় পুরোহিত, বিশপ-যারা কোন না কোন ধর্মের সেবায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছে তাদেরকে হত্যা করবে না। কোন গাছ কাটবে না, কোন গৃহ ধ্বসিয়ে নিবে না। তরবারির জোরেই যদি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করত, তাহলে তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি স্থায়ী প্রভাব কিভাবে রেখাপাত করলো ?
এতোক্ষণ যে বিষয়ে আলোচনা করলাম এটি ইসলামের ইতিহাসের নীতি ও আদর্শের মহান উদাহরণ। অথচ আমরা মুসলমানরা এখন অন্যের স্বার্থ হাসিলের জন্যে বিভ্রান্তির ধর্মজালে পড়ে নিজেদের ধ্বংস করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের এই বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে মুক্ত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*