সম্প্রীতি বিনষ্ঠে পাহাড়ী-বাঙালি শব্দের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে: পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী

Veraনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন ইস্যুতে একটি দুষ্টচক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ঠে পাহাড়ী-বাঙালি শব্দের অপপ্রয়োগ করছে। সাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ থেকে পাহাড়ী-বাঙালি শব্দের ব্যবহার করে সম্প্রীতির মধ্যে সীমানা তৈরী করা হচ্ছে।

তিনি আজ (বুধবার)বিকালে মহালছড়ির মাইসছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে প্রাণিসম্পদ বিভাগের আয়োজনে সমাজ ভিত্তিক ও বাণিজ্যিক খামারে দেশি ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ (কম্পোনেন্ট-বি) ২য় পর্যায় প্রকল্পের আওতাধীন ২০জন সুফল ভোগীদের মধ্যে ৬০টি বিনামূল্যে ভেড়া বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বঙ্গবন্ধুসহ স্বাধীনতার যুদ্ধে ৩০লক্ষ শহীদ ও ২লক্ষ মা-বোনকে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাতসহ বীর শহীদের আত্নার মাগফিরাত করেছেন।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনায় রাজধানীসহ সমতল জেলায় আরো বেশি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে থাকে। সেসব ঘটনায়তো সম্প্রদায় ভিত্তিক বিশেষায়ন করা হয় না, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কেন যত্রতত্র ভাবে পাহাড়ী-বাঙালি শব্দ জড়িয়ে দিয়ে সম্প্রীতির মধ্যে সীমানা তৈরী করা হচ্ছে?  সম্প্রীতির পূর্ব শর্ত শান্তি, উন্নয়নের পূর্ব শর্ত সম্প্রীতি এ শ্লোগানে যখনি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ এ জেলাকে সম্প্রীতির মডেল হিসেবে গঠন করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন ঠিক তখনি একটি দুষ্টচক্রের দল সামান্য ইস্যুতে পাহাড়ী-বাঙালি শব্দের অপপ্রয়োগ করে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ঠ করে ফায়দা লুটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসময় তিনি বাস্তবতার আলোকে এ বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন,  আমরা পার্বত্যবাসী সকলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার নাগরিক। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠির কৃষ্টি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলস ভাবে কাজ করছেন। তারই দুরদর্শীতামূলক নির্দেশনায় খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বে আমরাও সম্প্রীতি অটুট রাখতে সচেষ্ঠ। এসময় তিনি ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। গ্রামের অতি দরিদ্র পরিবার ভেড়া পালন করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভেড়া পালন একটি উপযোগী স্থান এবং অত্যন্ত লাভজনক গৃহপালিত প্রাণি। এ ভেড়া অতি দ্রুত বংশ বৃদ্ধি হওয়ার কারণে অতি সহজেই পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াছ মিয়া, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শেখ আবদুল মান্নান, থানার অফিসার ইনচার্জ সেমায়ূন কবির চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার শীল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তুষার কান্তি চাকমা ও মাইসছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শান্তশীল চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহালছড়ি উপজেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*