সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে খাগড়াছড়ি সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার শোক প্রকাশ

সমাজপার্বত্যবাণী ডেস্ক: মাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। আজ বুধবার তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী খগেন্দ্র লাল ত্রিপুরা স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, প্রমোদ মানকিনের মৃত্যুতে জাতি একজন সত্যিকারের রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিককে হারালো। জাতি তার অবদান চিরদিন স্মরণ রাখবে। শোকবার্তায় তিনি প্রমোদ মানকিনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রসংগত: ভারতের মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বুধবার (১১ মে) সকালে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুর রহমান ভোর ৪টার দিকে মৃত্যু হয় প্রমোদ মানকিনের। মৃত্যুকালে স্ত্রী, পাঁচ কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মাসখানেক ধরে ভারতের হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ক’দিন আগে তার ফুসফুসে অস্ত্রোপচারও হয়।

মানকিন ১৯৩৯ সালের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মেঘা তজু এবং মায়ের নাম হৃদয় শিসিলিয়া মানকিন। আট ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন তিনি। সংগঠক হিসেবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ভারতের মেঘালয়-শিববাড়ি উদ্বাস্তু শিবিরে পরম আন্তরিকতার সঙ্গে ৫০ হাজার শরণার্থীর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৪ সালের ২৯ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার জোয়াকিম আশাক্রার জ্যেষ্ঠ কন্যা মমতা আরেং এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়া প্রমোদ মানকিন ২০০৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন।

এরপর ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তারপর ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ দায়িত্বেই ছিলেন প্রমোদ মানকিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*