শোকাবহ আগস্ট মাস শুরু

পার্বত্যবাণী শোকপার্বত্যবাণী ডেস্ক: `যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।/দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা রক্তগঙ্গা বহমান/তবু নাহি ভয়, হবে হবে জয়, জয় মুজিবর রহমান।` মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একাত্তরের মে মাসে কলকাতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ফিরে এসে এ কবিতাটি লেখেন বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান লেখক অন্নদাশঙ্কর রায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হওয়ার পর কবিতাটি নতুন মাত্রা পায়। অশ্রুনদী আর রক্তনদীতে একাকার হয়ে যায় পুরো দেশ। মানুষ কান্নার শক্তিও হারিয়ে ফেলে। আজ (সোমবার) সেই শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন। বর্ষপরিক্রমায় আজ থেকে আবারও শুরু হলো বাঙালির শোকের মাস।

আগস্ট মাসজুড়ে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে নানা আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘৃণা, ধিক্কার জানাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের, যাদের কারণে একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা আবার রাজনৈতিক অপতৎপরতা শুরু ও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, গণতন্ত্রকে হত্যা করে সামরিকতন্ত্র এসেছিল।

১৯৭৫ সালের মধ্যভাগে এই বেদনাবিধূর ও কলঙ্কিত ঘটনা ঘটে। ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান এই স্থপতির বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় শ্যামল বাংলার মাটি। সেনাবাহিনীর একদল চক্রান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ১৫ আগস্টের কালরাতে প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। প্রবাসে থাকায় জীবন রক্ষা পায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার।

নির্মম সেই হত্যাযজ্ঞে আরো নিহত হন বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, শিশু পৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কমকর্তা-কর্মচারী।

জাতি শোকের মাসে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এসব শহীদকেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*