শিক্ষা, শিক্ষক ও মর্যাদা

Uniমো. ইব্রাহীম হোসেন মণ্ডল:
শিক্ষক শব্দটার মধ্যে অমিত শক্তি ও মর্যাদা সুপ্ত অবস্থায় আছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা সম্মান ও মর্যাদা পেয়ে থাকেন। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ও নিবেদিত ব্যক্তিবর্গের কর্মকাণ্ডে এই শিক্ষক শব্দটা শ্রুতিমধুর ও মর্যাদার আসন পেয়েছে। তাই অনেকেই নিজ নামে এ পেশার খেতাব লাগিয়ে মর্যাদা ও গর্বের স্বাদ আস্বাদন ও স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করেন।
শিক্ষক হলেন সেইসব ব্যক্তি যারা শিখন ও শিক্ষাদান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তবে এ পেশার মানুষ ছাড়া অন্যরা শিক্ষাদান করেন না, তা নয়। প্রত্যেক পেশার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকেরা তার চেয়ে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অধস্তনদের নিজ পেশায় যুগোপযোগী করে গড়ে তোলেন। ফলে অভিজ্ঞ লোকেরা কম অভিজ্ঞদের কাছে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয়। এর ফলস্বরূপ এই সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের নাম ধরে না ডেকে সম্মানসূচক সাধারণ শব্দ যেমন মহাশয়, স্যার, হুজুর, ওস্তাদজী ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা হয়। এতে তারা আত্মতৃপ্ত হন এবং নিজেকে সম্মানিত ও গর্বিত বোধ করেন। এই শব্দগুলো দিয়ে কাউকে সম্বোধন করার মাধ্যমে অন্তরের অন্তস্থল থেকে সম্মান দেয়া-নেয়ার একটি বিষয় জড়িত। অন্যদিকে বস, নেতা, প্রশাসক ইত্যাদি ক্ষমতা ও দাম্ভিকতা প্রকাশক শব্দ। এখানে সম্মানের বিষয়টি ক্ষমতা বা লোভনির্ভর।
যুগে যুগে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছেন। অতীতে শিক্ষানুরাগীদের শিক্ষকের বাড়ি গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো। এতে শিক্ষাগুরুরা তাদের জ্ঞান, সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, দর্শন, মন-প্রাণ-অন্তর, এমনকি ভরণ-পোষণসহ শিক্ষানুরাগীদের শিক্ষা দিয়ে এমনভাবে গড়ে তুলতেন যেন এরা বড় হয়ে উন্নততর ও উচ্চতর জীবনবোধ এবং বিবেকবোধ নিয়ে সমাজ ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক হয়। সেসব শিক্ষক, গবেষক ও চিন্তাবিদের অবদানে উত্তরোত্তর উন্নততর শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা আমরা পেয়েছি। আর এজন্য আমরা শিক্ষকদের উন্নততর চিন্তা-চেতনা ও সমাজ পরিবর্তনের ধারক-বাহক হিসেবে বংশগতভাবে সম্মান ও মর্যাদার আসনে রাখি। সব শিক্ষার্থী সমানভাবে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে না, এটি নির্ভর করে তাদের চিন্তা-চেতনা, চাওয়া-পাওয়া ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপরও। এ কারণে আমরা শিক্ষিত লোকের আচার-আচরণে ব্যাপক ব্যতিক্রম দেখি। তাই সনদপত্রধারী শিক্ষিত হয়েও শিক্ষক ও শিক্ষিত লোকের আসন ধরে রাখতে অনেকে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং এরা পুরো সমাজকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে চলেছেন।
অতীতে ছাত্র বা শিক্ষানুরাগীরা গুরুর গৃহে অবস্থান নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করত। কিন্তু শিক্ষকরা সবসময়ই আর্থিকভাবে দুর্বল। পরবর্তী সময় জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে শিক্ষাদান পদ্ধতি গড়ে ওঠে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। তারা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে শিক্ষাদান করতে পারেন সেজন্য সমাজ হিতৈষী, সরকার, এমনকি সমাজের সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এসব অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। শিক্ষার হাতেখড়ি পরিবারেই প্রথম শুরু হয়, পরবর্তী সময়ে স্কুলে এবং এ স্তরে শিক্ষণীয় বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম-শৃংখলা, নৈতিকতা, আদর্শ, বিবেকবোধ ও কর্তব্যবোধের বীজ বপন করা হয় যাতে তারা সাধারণ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। কলেজে নিয়ম-শৃংখলার সঙ্গে সঙ্গে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে মোটামুটি অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলা হয় যেন সমাজে দক্ষতার সঙ্গে সুচারুরূপে দায়িত্বটুকু পালন করা যায়। এ দুটি স্তরে যেসব ছাত্র মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে না, তারা সমাজের পছন্দ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর মেধাবী ছাত্ররা নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তথা গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আসে। এখানে পঠন-পাঠনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি ও সন্ধান করা হয়। ফলে এই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমাজের চাহিদা অনুযায়ী মানুষ গড়ার কারখানা হিসেবে কাজ করে। শিক্ষকরা হচ্ছে এই কারখানার কারিগর। শিক্ষা-পরিবারে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ছাত্রদের কর্মদক্ষতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে আত্মমর্যাদাবোধ, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধেরও শিক্ষা দিয়ে থাকেন। ফলে এসব ছাত্র পরবর্তী সময়ে সমাজে ছোট-বড়, উঁচু-নিচু বিভিন্ন স্তরে বিচরণ করলেও জীবনের পথপ্রদর্শক শিক্ষকদের অকাতরে সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে থাকে। শিক্ষক জীবনের সার্থকতা এখানেই।
বর্তমানে সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে। এখানে নীতি, আদর্শ, দায়িত্ব ও কর্তব্য ইত্যাদি শব্দের প্রকৃত ব্যাখ্যার পরিবর্তন ঘটেছে এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে পরিণত হয়েছে। অতীতের মতো শিক্ষকরা বিভিন্ন কারণে তাদের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা হলেও অনেকেই অনন্যোপায় ও বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে এই পথ। শুধু জীবিকার তাগিদে যারা আসে, তারা মেধা মননশীলতা, দায়িত্ব-কর্তব্য, যোগ্যতা ইত্যাদি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অথবা প্রভাবশালীদের প্রভাবে অথবা অর্থের বিনিময়ে ও উভয়ের সহযোগিতায় শিক্ষক হচ্ছে। এরা শিক্ষকতাকে পুুঁজি করে অর্থবিত্ত-বৈভবের পেছনে ছুটে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রদের পুঁজি করে একটা পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, এগুলো হচ্ছে কোচিং সেন্টার, ব্যক্তি শিক্ষকের প্রাইভেট শিক্ষা পদ্ধতি ইত্যাদি। এদের চাতুর্যপূর্ণ চটকদারি প্রচারণা ও দৌরাত্ম্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক সমাজ অসহায় হয়ে পড়েছে। এদের নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হওয়ায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে।
শিক্ষকদের নিয়ে পত্রপত্রিকায় পক্ষে-বিপক্ষে অনেক লেখালেখি হয়েছে ও হচ্ছে। শিক্ষকের হাতে গড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রকৃত অর্থে সফল। সমাজে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যারা শিক্ষা না নিয়ে বা স্কুল-কলেজে না পড়ে অফিস-আদালতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ও রাজনীতিতে সুনামের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তারা ছাত্রাবস্থা থেকে আজীবন অন্তরের অন্তস্থল থেকে শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে কার্পণ্য করেন না।
তাদেরই একাংশ নীতি ও আদর্শবর্জিতভাবে সমাজে বিভিন্নভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে চলেছে এবং ক্ষমতা ও বিত্ত-বৈভব করায়ত্ত করে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। এরা শিক্ষিত নয়- নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশ, জাতি ও সমাজের প্রতি লৌকিক ও মৌখিক দায়-দায়িত্ব ছাড়া এরা আর কিছুই জানে না। যার ফলে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ষড়যন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ চাকরিজীবীরা আজ বেতন-বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এই বৈষম্য দূরীকরণে লৌকিক ও কপট সদিচ্ছা দেখালেও বারবার তাদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সবাই।
শিক্ষা খাতে সরকারি মানসম্মত বরাদ্দ ৭ শতাংশের স্থলে ২ শতাংশের মতো। আর এই বরাদ্দে শিক্ষকদের বেতন ছাড়া শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই বললেই চলে। শহরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মৃতপ্রায় বা কঙ্কালসার। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের যে বেতন তা দিয়ে ছয়জনের সংসার চালাতে তাদের ধারদেনা করে চলতে হয়। এ রকম অভাব-অনটনে রয়েছে যারা, তাদের কাছ থেকে কতটুকু আশা করা যেতে পারে? তবুও তারা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি অসীম মমত্ব ও স্নেহ-ভালোবাসা থাকায় ধৈর্য ও মনোবল দিয়ে সেবা করে যাচ্ছেন। শিক্ষকতা ছাড়া সরকার তাদের দিয়ে জরিপ, নির্বাচন ইত্যাদি কাজও চালিয়ে নেয় এবং রাজনীতিকরা ছাত্র-ছাত্রীসহ তাদের রোদ-বৃষ্টিতে ভিজিয়ে বাধ্য করে সম্মান আদায় করে নিতে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার অবস্থা প্রাথমিকের অনুরূপ। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশ করে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু এই অভাব-অনটনের মধ্যে থেকে শিক্ষার উৎকর্ষ ও গুণগত মান নিয়ে চিন্তা করা কঠিন।
শিক্ষার গুণগত মান ও উৎকর্ষ বাড়ানোর জন্য সরকারকেই ভূমিকা নিতে হবে। শিক্ষকদের শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্য বেতন-ভাতা দিলেই হবে না; শিক্ষার উপকরণসহ অবকাঠামোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আশু প্রয়োজন। পঠন-পাঠনের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা অত্যাবশ্যক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণার সুযোগ-সুবিধার অভাবে শুধু পঠন-পাঠনের মাধ্যমে দায়মুক্তির চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অথচ তাদের কাজ হচ্ছে পঠন-পাঠনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন জ্ঞানের সন্ধান ও সৃষ্টি করা। বিজ্ঞানের শিক্ষকরা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির অভাবে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন। এই অসহায় পরিস্থিতিতে সরকারের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভূমিকায় না নিয়ে অবনমনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। স্বল্প বেতনের দৈন্যের মধ্যে মাথাকে সদাসর্বদা ব্যস্ত রেখে কখনোই জ্ঞানের সন্ধান ও সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই সরকারকে শিক্ষা উপকরণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন জ্ঞানের সন্ধান ও সৃষ্টির জন্য প্রত্যেক অভিজ্ঞ শিক্ষকের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণসহ তা সমাধানের নীতি অবলম্বন করতে হবে।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে স্বাধীনভাবে অবদান রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য। দ্বাদশ শতাব্দী থেকে ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন কখনও ধর্মযাজক, কখনও পাদ্রি এবং কখনও সরকারের হস্তক্ষেপে হুমকির মুখোমুখি হলেও স্বায়ত্তশাসন হারায়নি। পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়। তাই তৎকালীন শাসকরা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য মুক্ত স্বাধীন চিন্তার লালনস্থল বিশ্ববিদ্যলয়ের স্বায়ত্তশাসন হরণের মতো হীন চক্রান্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু এ ব্যাপারটা বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলেই স্বাধীনতার পরপরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে শিক্ষকদের উপযুক্ত মর্যাদার আসনে উপনীত করেছিলেন। আজ তারই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আমলে শিক্ষকদের মর্যাদার অবনমন হবে এবং এর জন্য শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হবে, এমনটি আমরা আশা করিনি। তাই শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে শিক্ষা খাতে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষকদের যথোপযুক্ত মর্যাদা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
মো. ইব্রাহীম হোসেন মণ্ডল : অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*