শালবনের আতংক ব্লাক জুয়েলের পশুত্ব তান্ডবে জখম তিন পথচারী

vbvনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেছে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা তথা খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড পাহাড় বেষ্ঠিত শালবন এলাকাটি। গুচ্ছগ্রামে রেশনকার্ডধারী অধ্যুষিত এলাকাটিতে রাজনৈতিক, সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে সম্প্রতি আইন শৃঙ্খখলার চরম অবনতি ঘটেছে। উত্তপ্ত সেই শালবন এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রসহ এলাকার নিরীহ নরনারীরা মতবিনিময় সভা করার পরেও সপ্তাহ না ফুরাতে আজো উত্তপ্ত হয়েছে শালবন। স্থানীয় ব্লাক জুয়েলে আজো ঘটিয়েছে পশুত্ব তান্ডব। এলোপাতাড়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে  জখম করেছে ৩জন পথচারীকে। এর আগেও গত ৩০ শে জানুয়ারি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ব্লাক জুয়েলের হামলার শিকার হন শালবাগান এলাকার বাসিন্দা মো. বাকের মিয়া , মো. আলমগীর ও মো. মশিউর রহমান নামের তিনজন। তবুও রহস্যজনক কারনে ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে ব্লাক জুয়েল !

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকালে রসুলপুর এলাকায় ব্লাকজুয়েলের পশুত্ব তান্ডবে দায়ের কোপে আহত হয়েছেন তেতুল তলার বাসিন্দা উথাইপ্রু মারমা (৪০), ধর্মঘর এলাকার রিপ্রুচাই মারমা (৩৫), মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী এলাকার বাসিন্দা নুর আলম (২৫) ও শালবাগানের বাসিন্দা ফারুক। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌছলেও গা ঢাকা দেয় ব্লাক জুয়েল। এদিকে, এ ঘটনায় হতাহতদের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে দেখতে ছুটে যান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শানে আলম, খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, যুবনেতা মাসুদুল হক মাসুদ ও আওয়ামীলীগ নেতা পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল প্রমূখ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাক্টর চালক জাকির হোসেন জানান, তিনি ভাড়া নিয়ে শালবাগানের রসুলপুর পৌঁছালে রাস্তার পাশে বসে নেশা করতে থাকা ব্লাক জুয়েল, আকতার সহ তিনজন তার গতিরোধ করে। ট্রাক্টর থামালে ব্লাক জুয়েল গলায় ধারালো ক্রিস চেপে ধরে টাকা দাবি করে। ১০০ টাকা দেয়ার পরও সহকারী নুর আলমের ঘারড় এবং পায়ে কোপ চালায় ব্লাক জুয়েল। হামলায় আহত রিপ্রুচাই মারমা জানান, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। রসুলপুর আসতেই তিনজনে এলোপাথারি কুপিয়ে তাকে আহত করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শালবন এলাকার বর্তমান ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ব্লাক জুয়েল। নেশার জন্য, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে যখন তখন পথচারীদের গতিরোধ করে ছিনতাই, হুমকি ধমকি অব্যাহত রাখে ব্লাক জুয়েল। জেলার দুটি গ্রুপের কোন্দলের মধ্যে ও অশান্ত শালবনে ব্লাক জুয়েল পর পর দুটি ঘটনা ঘটলেও আজো ধরাছোঁয়ার বাহিরেই থাকছে ব্লাক জুয়েল।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন জানান,  শালবনের অশান্ত পরিবেশকে শান্ত ও আইনশৃঙ্খখলা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে শালবনে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গত বুধবার মতবিনিময় সভা করা হয়। এলাকাবাসী মাদকাসক্ত, কতিপয় ব্যক্তিদের রাজনৈতিক দলাদলিতে অতিষ্ঠ। কতিপয় ব্যক্তিদের কারনে মিথ্যা মামলায় জড়িত করা হচ্ছে অনেক নিরাপরাধ মানুষকে। ব্লাক জুয়েলের বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। তিনি শালবন এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে গ্রামবাসীদের মাদকাসক্তদের সামাজিক ভাবে বয়কট করার আহবান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে  সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্লাক জুয়েলকে আটক করতে কয়েকটি টিম চেষ্টা চালাচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাকে আটক করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*