রামগড় বারুণী স্নানোৎসবে বাংলাদেশ-ভারত মিলন মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহি বারুণী স্নানোৎসবকে ঘিরে রবিবার বাংলাদেশের রামগড় ও ভারতের সাবরুম সীমান্তে ফেনী নদী পরিণত হয়েছিলো দু’দেশের মানুষের মিলন মেলায়। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত উভয় দেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও দর্শনাথীর সমাগম জনস্রোতে পরিণত হয়। রামগড় শহর এলাকায় শতশত যানবাহন ও দর্শনাথীদের সামাল দিতে আইন শৃংখলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় স্থানিয়রা যানযট নিরসনে পুলিশকে সহায়তা করতে দেখা গেছে।
ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলাকে ঘিরে চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশি তিথিতে প্রতিবছর ফেনী নদীতে বারুনী মেলায় মিলিত হন দুই দেশের হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপশি নিজেদের পুণ্যলাভ ও সকল প্রকার পাপ, পংকিলতা থেকে মুক্তি লাভের আশায় ফেনী নদীতে বারুনী স্নানে ছুটে আসেন সনাতন ধর্মালম্বীদের শিশু, কিশোর, বৃদ্ধাসহ সকলেই। সকাল থেকে শুরু হওয়া বারুণী স্নান বা পুজা অর্চনা ছাড়াও দুই দেশে অবস্থানকারী আত্মীয় স্বজনদের দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকেই। ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নানোৎসকে ঘিরে বহুকাল আগে থেকেই দু’দেশের সীমান্ত অঘোষিতভাবে কিছু সময়ের জন্য খোলা থাকায় দু’দেশের মানুষ এপার ওপারে ঘুরে যান। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ পূণ্যস্নানে অংশ নিতে ছুটে আসেন ফেনী নদীতে। বারুণী মেলা শুধু বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়েরর মধ্যে সীমিত নয় বরং ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, মুসলিমসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম ঘটে এ মেলায়। দু’দেশের স্থানিয় বাজারগুলো তখন মুখরিত হয়ে উঠে বেচাকেনা ও পদচারণায়। ফলে কিছুক্ষণের জন্য মানুষ দু’দেশের শহর গুলোতে বেড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন না।
সীতাকুন্ড থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসা স্কুল শিক্ষক সুমন কান্তি বারুণী মেলা সম্পর্কে  বলেন, ঐতিহাসিক বারুনী মেলা ভারত বিভক্তির পূর্বে ও পাকিস্থান আমলেও এখানে দূরদূরান্তের বিভিন্ন এলাক থেকে বিপুল পুণ্যার্থীর সমাগম হত। ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি দু’দেশের অবস্থানরত আত্মিায় স্বজনদের দেখা সাক্ষাতের জন্য তারা প্রতিবছর এখানে আসেন।
নদীতে পূজা অর্চনাকালে সাবরুমের হরিনা থেকে আসা সবিতা রানী জানান, চট্টগ্রামের মিরসরায়ে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। বারুনী উপলক্ষে বছরে অন্তত একবার সবার সাথে দেখা করেন এবং হিন্দু ধর্মের রীতি অনুসারে পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তির কামনা করে গংগায় স্নান করে তাদের উদ্দেশ্যে জল যান।
বারুনীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত অঘোষিত ভাবে খোলা থাকায় পুর্ণাথী ও দর্শনার্থীদের মাঝে কিছু বিক্রির আশায় দুই দেশের হকাররা নানান পন্য ও রকমারী নিয়ে পশরা সাজান। এতে ভারতীয়রা সেমাই, সাবান, শুটকি মাছ ইত্যাদি কিনে নিয়ে যান অপরদিকে ওপার থেকে বাংলাদেশীরা বিভিন্ন মালামাল কিনে আনেন। আর কেনা বেচার সুবিধার্থে এক শ্রেণীর লোক টাকা ও রুপির ব্যবসাও করে থাকেন। এদিকে দুই দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীদেকে যে কোন অপতৎপরতা ও অবৈধ মালামাল পারাপারে বেশ সতর্কতা থাকতে দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*