রাঙামাটিতে ছাত্রলীগের হরতাল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিকে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুপায়ন চাকমাকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীরা মারধরের প্রতিবাদে জেলা ছাত্রলীগের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে  দুই সংবাদকর্মী, পুলিশ ও পথচারীদের ওপর হামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের বনরূপা বাজারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সময় হামলায় আহতরা হলেন— চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক পূর্বদেশের রাঙামাটি প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিন, স্থানীয় সংবাদকর্মী সাইফুল বিন হাসান, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গাড়িচালক রূপকুমার ত্রিপুরা এবং ডিবি পুলিশের এক সদস্য। আহত দুই সাংবাদিককে রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের মিছিল থেকে হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সমকালের রাঙামাটি প্রতিনিধি সত্রং চাকমা।

এদিকে সোমবারের সংঘর্ষের জন্য এসপি-ওসিকে দায়ী করে তাদের প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগ।  হরতাল-পরবর্তী সমাবেশ থেকে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল জব্বার সুজন ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা অবিলম্বে রাঙামাটির এসপি সাঈদ তারিকুল হাসান, এএসপি জাহাঙ্গীর ও কোতোয়ালি থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়াকে অপসারণ করার দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন।

এদিকে, সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় ৪/৫’শ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে পুলিশ। হরতালের কারণে রাঙামাটি সদরসহ জেলার কোথাও যান চলাচল করতে পারেনি। এতে দুর্ভোগে পড়ে লোকজন। আটকা পড়ে দূরপাল্লার যাত্রীরা। দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও। পরীক্ষায় অংশ নিতে তাদেরকে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে হেঁটে। দোকানপাটসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল একেবারে কম।

অপরদিকে,  হরতাল চলাকালে ছাত্রলীগের কর্মীদের জোরালো পিকেটিং করতে দেখা গেছে। পিকেটিংয়ে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয় পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। হরতাল চলাকালে সকাল-দুপুর-বিকেলে শহরের বনরূপা, হ্যাপির মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও হরতালকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেলের দিকে বনরূপা এলাকায় হরতালউত্তর সমাবেশে মিলিত হওয়ার সময় আরেক দফা পুলিশ-হরতালকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সংবাদকর্মীরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপর সমাবেশের ভেতর থেকে অতর্কিত হামলা চালায় উচ্ছৃঙ্খল কয়েক ছাত্রলীগ কর্মী।

পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান। তবে তাকে প্রত্যাহার বা অপসারণ দাবি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তিনি বলেন, ‘সরকার যা ভালো মনে করে তাই হবে।’ ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, এএসপি (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার লিমন বোসসহ পুলিশের ৭/৮ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাদের দেখতে হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা প্রমুখ। সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ফোরামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*