যে স্বপ্ন ঘুমাতে দেয় না সেটায় প্রকৃত স্বপ্ন : পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী

DSC_3923নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন, প্রকৃত স্বপ্ন নয়। যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের তাড়ায় ঘুমাতে দেয় না, সেটায় হ’ল প্রকৃত স্বপ্ন। বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়তে তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ এর মাধ্যমে গত ২৯জুন বিশ্বব্যাংকের এক জরীপে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি ক্ষুধামুক্ত মধ্যবিত্ত দেশে পরিণত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ২০৪১এর রূপকল্প বাস্তবায়নে তাঁরই নেতৃত্বে ও খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার দুরদর্শী নির্দেশনায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে নিরলস ভাবে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসময় তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ের মাধ্যমেই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন করা সম্ভব। তিনি বেসরকার বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোয়ন্ননে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে প্রতিবছর সেমিনার করার পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থিত কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আশানুরূপ ভাবে না ঘটায় আগামী ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে স্কুল ভবন দ্বিতল করার লক্ষ্যে মে মাসেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে পার্বত্য জেলা পরিষধ বরাবর লিখিত ভাবে আবেদন করার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষকমন্ডলীদের শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবিড় পরিচর্যা করার আহবান জানান। পরে তিনি বার্ষিকী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এর আগে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার নির্মল কুমার চাকমা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি রাণী ত্রিপুরা, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন, প্রধান শিক্ষক নেপোলিয়ান চাকমা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পুরুষোত্তম চাকমা, অমৃত কুমার ত্রিপুরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি ইনস্টিটিউটের গবেষক চিংলামং চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক আ: করিম মজুমদার এবং স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন ৮ম শ্রেণির ছাত্র দর্পন চাকমা। ছাত্র দর্পণ চাকমা তার বক্তব্যে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে বই, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব ও শৌচাগার নির্মাণে প্রধান অতিথি’র দৃষ্টি আকর্ষন করেন। জানা যায়, এবছর এ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে ৮৪জন বিজয় লাভ করে।

প্রসংগত: ১৯৮৮ ইং সালে জেলার এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও স্কুলটি অবকাঠামোগত কারনে প্রতিবছর বন্যায় প্লাবিত হয়। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ হতে সদ্য নির্মিত পাকা ভবনটি নির্মাণের পূর্বে মাটি ভরাট করা হলে অন্তত: বন্যায় প্লাবন হতে স্কুলটি রক্ষা পেত বলে মতামত প্রদান করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*