যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য

DSC_3328নিজস্ব প্রতিবেদক: যক্ষ্মা রোগের লক্ষন ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে সাংস্কৃতিক কর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। সাংস্কৃতিক কর্মীদের যে কোন পরিবেশনায় যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করলে মানুষের মধ্যে দ্রুত সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে দিয়ে যক্ষ্ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সোমবার বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে “যক্ষ্ম রোগ নিয়ন্ত্রণে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা র্শীষক” আয়োজিত এডভোকেসী সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন।

সভার প্রধান আলোচক পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সঞ্জীব ত্রিপুরা বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মীরা আমাদের সমাজের একটি বৃহৎ অংশ। যক্ষ্মা ছোঁয়াচে হলেও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য।

আলোচনায় তিনি যক্ষ্মারোগ বিষয়ে আলোকপাত করেন যে, সাধারণত বদ্ধ, স্যাঁত স্যাঁতে, ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝেই যক্ষ্মা বা টিবি রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। যক্ষ্মা বা টিবির জীবাণুর সংক্রামণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এমনটি হয়। এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার মাত্রা কম থাকায় এ রোগের বিভিন্ন লক্ষণ বা উপসর্গ ধাপকে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সিংহভাগেরই তেমন ভালো কোনো ধারণা নেই। মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবার কিউলোসিস নামের এক ধরনের জীবাণু থেকে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর কফ থেকে এ রোগের জীবাণু একজনের দেহ থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এ রোগের কোন নির্দিষ্ট সুপ্ত কাল নেই। যেসব রোগী ৩ সপ্তাহের বেশি জ্বরে ভোগে তাদের ৩৩ শতাংশ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভাবনা থাকে। যাদের কাছ থেকে যক্ষ্মা রোগ ছড়াতে পারে তাদের বলা হয় ‘ওপেন কেস’। এদের কফ থেকে সব সময় জীবাণু বাসাতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এদের সাথে চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীর হাঁচি কাশির সাথে সাধারণত রোগ জীবাণু বাইরে আসে। রোগীর অন্য কোনো জিনিস যেমন থালা বাটি গ্লাসও পরিধেয় বস্ত্রাদির মধ্যে দিয়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বুকের এঙ্রে, রক্তের ইএসআর, কফ পরীক্ষা এবং টিউবার কিউলিন বা মনটেঙ্ টেস্ট করে যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়। বিসিজি ভ্যাকসিন ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে যক্ষ্মা প্রতিরোধ করতে পারে। তিনি সাংস্কৃতিক কর্মীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টানমালার ফাঁকে ফাঁকে যক্ষ্ম বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের আহবান জানান।

এসময় বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. আবুল কাসেম, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মংসাথোয়াই চৌধুরী, নাটাব খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক জীতেন বড়ুয়া প্রমূখ। সভায় জেলার ৩০জন সাংস্কৃতিক কর্মী অংশগ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*