মানব মনিবের টানে পেঙ্গুইনের ৮ হাজার কি:মি: পথ পাড়ি

Penguin-2
penguinঅনলাইন ডেস্ক:
ব্রাজিলে বন্যপ্রাণি পোষা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু ডিনডিমের কথা আলাদা। সে তার জীবনদাতা ও প্রিয় বন্ধুকে দেখতে আট হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছুটে আসে। গত চার বছর ধরে এই কাণ্ড করে চলেছে ডিনডিম নামের পেঙ্গুইনটি।
ডিনডিম হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার মেজেলানিক জাতের পেঙ্গুইন। প্রজননের জন্য তারা আর্জেন্টিনা, চিলি ও ফকল্যান্ড দ্বীপে ভিড় জমিয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে ব্রাজিলেও এ জাতের পেঙ্গুইনের দেখা পাওয়া যায়।
২০১১ সালে ৭১ বছরের জোয়াও পিরেইরা ডি সুজা নামের এক শৌখিন জেলে মুমূর্ষু অবস্থায় একটি পেঙ্গুইনকে উদ্ধার করেন। ব্রাজিলের এই বৃদ্ধ একসময় রাজমিস্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি থাকেন রিও ডি জেনিরোর বাইরের এক গ্রামে। একদিন মাছ ধরতে গিয়েই সাগর থেকে পাখিটিকে দেখেন তিনি। তখন তার গোটা শরীরে লেপ্টে ছিল তেল। তিনি ওকে সাফসুতরো করে ঘরে তুলে নেন। এর নাম দেন ডিনডিম। তার নিবিড় পরিচর্যায় দ্রুত সেরে ওঠে পেঙ্গুইনটি।

পুরো ১১ মাস পাখিটি তার কাছে ছিল। ততদিনে ব্রাজিলের ওই দয়ালু জেলেটির সঙ্গে মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গেছে ডিনডিম। সে তো কিছুতেই জোয়াওকে ছেড়ে যাবে না। কিন্তু চাইলেই তো আর এই বন্যপ্রাণিটিকে ধরে রাখা যায় না! শেষে একদিন বুকে পাথর বেঁধে ডিনডিমকে বিদায় জানালেন জোয়াও। কিন্তু কী আশ্চর্য! পরের বছর ঠিক সে ফিরে এসেছে বন্ধুকে দেখতে। এরপর প্রতিবছর একবার করে ব্রাজিলে ছুটে আসছে ডিনডিম। আর একবার আসলে আট মাস থেকে যায়। আট হাজার কিলোমিটার জল সাঁতরে সে আসে জোয়ানের কাছে। বিষয়টি এখন নিয়মিতই হয়ে গেছে।

এ সম্পর্কে গ্লোবো টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জোয়াও বলেন, ‘আমি পেঙ্গুইনটিকে নিজের সন্তানের মতই ভালোবাসি। সেও আমাকে ভালোবাসে। ও আমার কোলে উঠে বসে। আমি তাকে আদর করে গোসল করিয়ে দেই। মুখে তুলে সার্ডিন মাছ খাইয়ে দেই। এরপর জল থেকে তুলে আনি।’

জোয়াও যখন প্রথমবার ওকে বিদায় দিয়েছিলেন তখন সবাই বলেছিল, ‘দেখো, ও আর ফিরবে না।’ কিন্তু সবার ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করেছে কৃতজ্ঞ ডিনডিম। গত চার বছর ধরেই শুধু প্রিয় বন্ধুকে একনজর দেখার জন্য ফিরে ফিরে আসছে ডিনডিম। সে আসে আট হাজার কিলোমিটার পথ সাঁতরে। এ কিন্তু সোজা ব্যাপার নয়! আর বন্ধু জোয়াওকে দেখলে প্রভুভক্ত কুকুরের মতই লেজটি নাড়াতে থাকে পেঙ্গুইনটি। আনন্দের আতিশয্যে বারবার মুখটি উঁচিয়ে ডাকতে থাকে।
এ সম্পর্কে জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক ক্রাজেউস্কি বলেন, ‘আমি এর আগে এরকম ঘটনা দেখিনি। আমার ধারণা, জোয়াওকে সে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই মনে করে। যেন তারই মত সেও একটি পেঙ্গুইন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*