ভাষার মাসে গানে গানে কাঁদলেন, কাঁদালেন ১০বছরের প্রতিভাবান শিক্ষার্থী উম্রাচিং

উম্রানিজস্ব প্রতিবেদক: বাঙালির ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। আর কয়েকদিন পর ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান জাতীয় শহীদ দিবস। আজ ৯ ফেব্রুয়ারি,  বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনাঢ়ম্বর এক অনুষ্ঠানে গানে গানে কাঁদলেন ও কাঁদালেন ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থী। সালাম, সালাম হাজার সালাম এই গানটি পরিবেশন করতে গিয়ে ‘উম্রাচিং মারমা’ (বয়স-১০) নামে এক কোমলমতি শিশু দু’চোখে ঝড়েছে অশ্রু। সেই প্রতিভাবান ক্ষুধে শিল্পীর দেশাত্বাবোধক গান পরিবেশন, দেশের প্রতি মমত্ববোধ, ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের আবেগ বিচলিত অশ্রুজ্বল দেখে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষাবান্ধব চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াছমিন, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষা অফিসার বেলারানী দাশ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্য প্রকাশ ত্রিপুরাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবকমন্ডলী ও গণমাধ্যকর্মীরাও চোখের জ্বল আটকাতে পারেনি। এর আগে বলতে হয়, অনুষ্ঠানটি ছিল প্রথমবারের মতো শিক্ষার মান উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত খাগড়াছড়ি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বঙ্গবন্ধুর জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনসম্বলিত আলোচিত শিক্ষার্থী ডায়েরি বিতরণ অনুষ্ঠান।

এদিকে, অনাঢ়ম্বর অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনকারী সেই প্রতিভাবান ক্ষুধে শিল্পী ও শিক্ষার্থীর বিষয়ে খোঁজখবর নেন পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী। তিনি প্রতিভাবান কণ্ঠের অধিকারী শিক্ষার্থীর পড়ালেখার খরচ যোগানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং গানে মুগ্ধ হয়ে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেছেন।

উম্রাচিং মারমাঅপরদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উম্রাচিং মারমা, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ঠাকুরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। তাঁর ক্লাস রোল নং-০৪, জেলা সদরে দক্ষিণ গোলাবাড়ী এলাকার মৃত. উষা চৌধুরী ও মাতা উক্রাচিং চৌধুরীর ঘরে তার জন্ম। পিতার মৃত্যুর পর তার মাতা অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে দিনাতিপাত করার মধ্যেও প্রতিভাবান উম্রাচিং মারমার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মনুচিং চৌধুরী নামে ছোট ভাইও রয়েছে।

কোমলমতি এই শিক্ষার্থী জানান, আমি স্কুলের ডলি ম্যাডামের কাছ থেকে দেশাত্নবোধক গানটি শিখেছি। আমি গান শিখতে চাই,পড়ালেখা করতে চাই, কিন্তু আমার পিতা নাই, অর্থ নাই।

এদিকে, স্কুলের সকল শিক্ষক জানান, পৃষ্টপোষকতা পেয়ে  প্রতিভাবান উম্রাচিং মারমা একদিন দেশের জন্য অনেক কিছু করার প্রতিভা রয়েছে।

অপরদিকে, পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, আমার বড় মেয়ের নামও উম্রাচিং মারমা। পাহাড়ের এমন প্রতিভাবান অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্রাচিং মারমার লেখাপড়া ও দেখভালের বিষয়টি আমি আন্তরিকভাবে নিয়েছি। আশা করি, উম্রাচিং এই পাহাড়ে দেশের গান ছড়িয়ে দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*