ব্রিজ ভেঙ্গে ট্রাক খালে: লাপাত্তা অবৈধ চিরাই কাঠ! রহস্যজনক ভূমিকায় রামগড় রেঞ্জ

মুহাম্মদ আবুল কাসেম: গত সোমবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় কালাডেবা বাজার এলাকায় অবৈধ চিরাই কাঠের  ভারে ব্রিজ ধ্বসে পড়ে ট্রাক খালে পড়ার ঘটনায় প্রভাবশালী কাঠ পাচারকারীদের দৌরাতেœ অবৈধ চিরাইকাঠ বিষয়টি ধামাচাপায় পড়েছে। রাতে গভীরের কাহিনী সকালের সূর্য্য ওঠার আগেই লাপাত্তা চিড়াই কাঠ উদ্ধারে রহস্যজনক ভূমিকা করছে বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনাটিকে সেই সিন্ডিকেটই দেখানোর চেষ্ঠা চালাচ্ছে  খালি ট্রাকের ভার-ই যেন সহ্য করতে পারেনি ব্রিজটি!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালাডেবা বাজারের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ  ব্রীজটি দিয়ে ভারী যান চলাচলের অযোগ্য হলেও খালি ট্রাক পারাপারের সক্ষমতা ছিল ব্রিজটির। অবৈধ চিরাই কাঠ বোঁঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১৬৪৭) পারাপারের সময় ব্রীজটি ট্রাকসহ খালে ধসে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি ধসে পড়ার পর পর স্থানীয় প্রভাবশালী কাঠ পাচারকারীর সিন্ডিকেটের সদস্যরা ২০-৩০টি ট্রাক্টর দিয়ে ভোর ৭টার মধ্যেই ট্রাক্টর যোগে সম্পূর্ণ ট্রাক ভর্তি অবৈধ চিরাই কাঠগুলি অন্যত্র সরিয়ে নেয়। মুহুর্তেই লাপাত্তা হয়ে যায় লক্ষ  টাকার অবৈধ  চিড়াই কাঠ। এসময় স্থানীয় অনেকেই মুঠোফোনে সেই দৃশ্য’র ছবি সংরক্ষণ করে রাখে। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ব্রিজ ধসে পড়ার কারন খতিয়ে দেখতে গেলে সেই সিন্ডিকেটরাই অবৈধ চিরাই কাঠের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সিন্ডিকেটদের দৌরাতেœ রামগড় রেঞ্জের ষ্টেশন কর্মকর্তা মাহফুজুল হকসহ রামগড় রেঞ্জের কর্মকর্তারা  এখনো রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরা ষ্টেশন কর্মকর্তা মাহফুজুল হককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলেও ষ্টেশন কর্মকর্তা মোবাইল রিসিভ না করে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রামগড়ে প্রভাবশালী একটি গাছ পাচার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও ব্রীজ দিয়ে খাগড়াবিল হাতির খেদা, বালুখালী হয়ে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ও গভীর রাতে সোনাইপুল দিয়ে অবৈধ গাছ ও বাঁশ পাচার করে আসছে। গাছ পাচারকে কেন্দ্র করে কালাডেবা, লামকুপাড়া, সোনাইপুল ও খাগড়াবিল সড়কে রাতারাতি গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ করাত কল। ফলে উজাড় হচ্ছে বন, বিপন্ন হচ্ছে মানবতা আর সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। স্থানীয়রা এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট হতে রামগড়ের সবুজ বনাঞ্চল রক্ষার স্বার্থে সিন্ডিকেটদের দ্বারা লাপাত্তা সেইসব চিড়াইকাঠ উদ্ধারে  অভিযান পরিচালনার জন্য দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে রামগড় রেঞ্জের ষ্টেশন কর্মকর্তা মাহফুজুল হককে মুঠোফোনে বার বার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এর আগে রামগড় এলজিইডি অতিরিক্ত পরিচালক আনোয়ার হোসেন পরিদর্শন শেষে জানান, উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষের নিকট নতুন ব্রীজ ও অস্থায়ীভাবে জরুরী ভিক্তিতে জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা থাকলেও শেষ খবরে জানা যায়, এখনো খালেই ট্রাকটি পড়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*