বৈসাবি উপলক্ষে কুড়াদিয়াছড়ায় বৃহৎ পরিসরে গরয়া নৃত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাহাড়ের প্রানের উৎসব বৈসাবি। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাইন ও চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু। এ তিন সম্প্রদায়ের উৎসব সমূহের আদিক্ষ্যরে ‘বৈসাবি’র আনন্দের যেন মাতোয়ারা পাহাড়। একদিকে বাঙালির বাংলা নববর্ষ, অন্যদিকে বৈসাবির আনন্দে ভাসছে খাগড়াছড়িবাসী। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়াতে পুরোদিনটি জেলাবাসী পালন করেছে অন্যরকম ভাবে। বৈসাবি  উৎসবের আনন্দ যেমনি যানজটের শহরবাসী মুগ্ধ হয়েছে তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠিরাও এ উৎসবে নিজেদের মাতিয়ে তোলেছেন সাধ্যমত।

শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে আজো বৈসাবির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে জমজমাটপূর্ণ ও আনন্দময় এক পরিবেশনায় বৃহৎ আকারে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গরয়া নৃত্য পরিবেশনা হয়েছে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের কুড়াদিয়াছড়া এলাকায়।

স্থানীয় ২৪০নং লতিবান মৌজার মৌজা প্রধান সাপুরাম রোয়াজার বাড়ীর প্রাঙ্গনে গরয়া নৃত্য পরিবেশিত হয়। এর আগে জেলার বিভিন্ন স্থান হতে ছুটে যান শত শত লোকজন। আয়োজকরা জানান, ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী গরয়া পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব শান্তি কামনা সহ সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়া ও চাষাবাদে ভাল ফলন বয়ে আনতে সৃষ্টিকর্তাকে গরয়া নামেই সম্বধন করে গরয়া নামক মহাদেবকে স্মরণ করা হয়েছে। ২২মুদ্রার গরয়া নৃত্য পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে পুরান বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গরয়া নৃত্য পরিবেশনায় কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক যুবক অংশ নেন।

IMG_6157অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আওয়ামী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য তাপস কুমার ত্রিপুরা, ইউএনডিপি’র উর্ধতন কর্মকর্তা সন্তোষ ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটির সহকারী প্লানিং অফিসার ধ্বজী ত্রিপুরা, জাবারাং এনজিও’র প্রকল্প সমন্বয়ক দয়ানন্দ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার একান্ত সহকারী খগেন্দ্র ত্রিপুরা ও মানবাধিকার কর্মী চৈতালী ত্রিপুরা,প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, গরয়া নৃত্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অংশ হলেও সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ নৃত্য জাতীয় সংস্কৃতিতে স্থান করে নিয়েছে। এসময় তিনি পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক বলে জানিয়ে সকলকে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন  করার আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*