বিএনপির কাউন্সিল ঘিরে চাঙ্গা তৃণমূল, চলতি মাসেই ৩০ জেলায় সম্মেলন

bnpনজরুল ইসলাম  : ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে গতি ফিরেছে বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠন কার্যক্রমে। ১৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় এ কাউন্সিলের আগেই ৬৫ সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন সম্পন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। দলটির ৭৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১০টির সম্মেলন এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। পুনর্গঠন দ্রুত শেষ করতে বাকি জেলাগুলোকে দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। যেসব জেলা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সম্মেলন শেষ করতে পারবে, তার একটি তালিকা করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে অন্তত ৩০টি জেলা। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সিলেট, ৮ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ, ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা, ২০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগরের সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় কাউন্সিলের আগে যদি কোনো জেলার সম্মেলন শেষ না হয়, সেক্ষেত্রে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি অথবা বর্তমান কমিটিকেই কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য করা হবে। কাউন্সিলের পরপরই ওইসব জেলায় নতুন কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতারা যেসব জেলার দায়িত্বে রয়েছেন, সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাংগঠনিক জেলার কাউন্সিল সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তার কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান সাংগঠনিক প্রক্রিয়া হচ্ছে কাউন্সিলর নির্ধারণ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক স্তরের জেলা/মহানগর/উপজেলা/ থানা/পৌরসভা/থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা-মহানগর থেকে দু’জন নারী সদস্য কাউন্সিলর হবেন। সেজন্য সাংগঠনিক স্তরের বিশেষ করে ৭৫ সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ঠিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুনর্গঠনের ব্যাপারে কঠোর হতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুনর্গঠনের সর্বশেষ তথ্য বিশেষ করে বিরোধপূর্ণ জেলাগুলোর সঠিক তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্টদের জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নির্দেশনা দেন। জানতে চাইলে পুনর্গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে পুরোদমে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ চলছে। জেলাগুলোর পুনর্গঠনের সবশেষ তথ্য দলের চেয়ারপারসনকে অবহিত করা হয়েছে। তার পরামর্শ নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে তৃণমূলে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের সব কমিটি পুনর্গঠন করতে গত ৯ আগস্ট কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হয়। পরে আরও কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও তৃণমূল পুনর্গঠন শেষ করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত রাঙ্গামাটি, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সৈয়দপুর, মাগুরাসহ প্রায় ১০টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ মাসের মধ্যে গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, খুলনা মহানগর, নরসিংদী, শেরপুর, জামালপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর, নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর, ঝালকাঠি, কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণসহ ৩০টি জেলা সম্মেলন শেষ করার টার্গেট নেয়া হয়েছে।

তবে বারবার নির্দেশ দেয়ার পরও যেসব জেলা কাজই শুরু করেনি, সেগুলোর কমিটি ভেঙে দিয়ে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি বা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে কেউ কেউ চাচ্ছেন বর্তমান কমিটি রেখে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হোক। ওই কমিটি সব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করবে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা মহানগরী, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ, খুলনা, নড়াইল।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে এর গতি বাড়ানো হয়েছে। কাউন্সিলের আগে সব জেলার সম্মেলন শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেখা যাক কতগুলো শেষ করা যায়।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দলকে শক্তিশালী করা। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে অযোগ্য ও সুবিধাবাদীরা যাতে নেতৃত্বে চলে আসতে না পারে সেদিকটাও নজর দিতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে তার বিভাগের সবকটি জেলার সম্মেলন শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা ও থানা কমিটিগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই কয়েকটি জেলার সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের আগেই আমাদের খুলনা বিভাগের ১১ সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন করার টার্গেট রয়েছে। আশা করি, সম্ভব হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চলতি সপ্তাহেই খুলনা মহানগর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

তিন ভেন্যুতে এখনও সাড়া মেলেনি; বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির জন্য আবেদন : আগামী ১৯ মার্চ ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের জন্য আবেদন করে বিএনপি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোটির সাড়া মেলেনি। এদিকে নতুন করে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির জন্য অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাউন্সিলের জন্য আমরা স্থান চেয়ে চিঠি দিয়েছি, এখনও জবাব মেলেনি। আশা করছি এই সপ্তাহে জবাব পাব। স্থানের অনুমতি নিশ্চিত হলেই আমরা জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারব।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে কাউন্সিলের অনুমতি চাওয়া নিয়ে দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ওই স্থানের বিরোধীরা বলছেন, সারা দেশে বিএনপির কাউন্সিলর অন্তত তিন হাজার। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে স্থান সংকুলান হবে না। সরকার শেষ পর্যন্ত এই স্থানের জন্য অনুমতি দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সুশৃংখলভাবে কাউন্সিল শেষ করা কঠিন হবে। এই বিষয়টি চিন্তা করে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*