বারুণী স্নানোৎসবকে ঘিরে রামগড়ে দুই বাংলা একাকার

image001

জানাগেছে,  ব্রিটিশ আমল থেকেই চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতি বছর ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে মিলিত হয় দুই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। এ মেলাকে ঘিরে দুই দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন। উভয় দেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে ফেনী নদী। তারা পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন এখানে। বারুণী মেলা শুধু বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়েরর মধ্যে সীমিত নয় বরং ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম ঘটে এ মেলায়।

চট্টগ্রাম থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসা ডা. বিনোধ চক্রবতী বারুনী মেলা সম্পর্কে বলেন, ঐতিহাসিক বরুণী মেলায় পাকিস্তান আমল থেকে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়ে আসছে। ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি দুদেশে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে তারা প্রতিবছর এখানে আসেন।
ভারতের সাব্রুম থেকে আসা ব্যবসায়ী মনিলাল দেবনাথ বলেন, প্রতি বছর এখানে হিন্দু ধর্মের রীতি অনুসারে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে গঙ্গায় স্নান করে তাদের উদ্দেশ্য জল দিতে হয়। এতে তাদের আত্মা শান্তি পায়।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের এক স্কুল শিক্ষিকা রনতী ত্রিপুরা পূর্জা অর্চনা দান কালে বলেন, নিজেদের শান্তি কামনার পাশাপাশি সকল পাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিবছর বারুনী মেলায় জলে স্নান করতে আসেন। রামগড় ও সাব্রুম অংশে নদীর দুই তীরে দুই দেশের পুরোহিতরা সকালেই আয়োজন করেছে  পূজা-অর্চণার। পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা ছাড়াও নিজের পুণ্যলাভ ও সর্বপ্রকার পাপ ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনী নদীর বারণী স্নানে ছুটে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বী আবালবৃদ্ধবণিতা। দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বিশেস করে চট্টগ্রাম, ফেনী, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ পূন্যস্নানে অংশ নিতে ছুটে আসেন ফেনী নদীতে। এ উপলক্ষে দু দেশের সীমান্ত শহর রামগড় ও সাব্রুম  এর স্থানীয় বাজারগুলো তখন মুখরিত হয়ে উঠে বেচাকেনা ও পদচারণায়। ফলে কিছুক্ষণের জন্য মানুষ দুদেশের শহরগুলোতে বেড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন না। এ সুযোগে দুই দেশে অবস্থানকারী আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার জন্যও অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন।

ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী মেলা উপলক্ষে বহুকাল থেকেই এই দিনে দুই দেশের সীমান্ত অঘোষিতভাবে কিছু সময়ের জন্য উন্মুক্ত থাকার সুবাদে এপার বাংলার মানুষ ছুটে যায় ওপারের সাব্রুম মহকুমা শহরে, আবার ওপারের লোক এসে ঘুরে যায় রামগড় উপজেলা শহরে। সীমান্তেই বসে টাকা বিনিময় বা পরিবর্তনের হাট। এ বছর ভীড় সামলাতে বিজিবি সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। অপরদিকে বিজিবি ও বিএসএফ এবং  উভয় দেশের পুলিশ সীমান্ত পাড়া পারের সময় দশনার্থীদে বাধা প্রদান করলেও জন স্রোতের কাছে কোন আইনই টিকছে না।এ পাড় ও পাড়ের পূনার্থীরা কে  অপরকে জড়িযে ধরে কুশল বিনিময় ও উপহার আদান প্রদানের পাশাপাশি কয়েক ঘন্টার জন্য নিজ নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছে।ফলে অঘোষিত ভাবে দু দেশের সীমান্ত উন্মোক্ত হয়ে পড়েছে ফলে এই স্মানোৎসবকে ঘিরে এপাড় বাংলা ওপাড় বাংলার একাকার হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*