বান্দরবান রুমা উপজেলা নির্বাহীর অফিসে হামলা: আহত-২

hamla ram নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবান রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসে  হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধকারীরা। মিছিলকারীদের হামলায় ইউএনও অফিসের অফিস সহায়ক তপন কান্তি দাশ ও স্থানীয় এলভিস বম আহত হন। এসময় অফিসের একটি গাড়ির কাচ ভেঙ্গে দেয় বিক্ষুব্ধরা। বগালেকে কয়েকটি কটেক ভেঙে দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রুমা বগালেকবাসী, সচেতন নাগরিক সমাজের ও আমরা বগালেকবাসীর ব্যানারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলকারীরা এ হামলা চালিয়েছে। আহতদের রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে জানিয়েছেন রুমা থানার ওসি শরীফুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রুমা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্ববাধানে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বগালেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। ইউএনওর নির্দেশে বগালেকের আশপাশে স্থানীয়দের গড়ে তোলা ৫টি কটেজ ভেঙে দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয় বগালেকবাসী। বগালেকের স্থানীয় টিম বমের ৩টি কটেজ, ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের একটি ও লালরাম বমের একটি কটেজ ভেঙে দেয়া হয়। এলাকাবাসীদের দাবি ইউএনও অন্যায়ভাবে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই তাদের কটেজ ভেঙে দিয়েছে। তারা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বগালেকের আশপাশে ঘর নির্মাণ করে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। বাঁচার তাগিদে আয় উপার্জনের জন্য তারা কটেজ নির্মাণ করেছেন গত ২০ বছর আগে। আর কটেজ ভেঙে দেয়াতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুমা বগালেকবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে গতকাল দুপুরে ইউএনও প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলকারীরা ইউএনও অফিস ঘেরাও করে রাখে। একপর্যায়ে মিছিলকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে ও অফিসে ভাঙচুর চালায়।
ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভানরাম সিয়াম বম বলেন, মঙ্গলবার কটেজ ভাঙ্গার আগে তাদেরকে কোনো ধরনের নোটিশ দেয়া হয়নি। তাছাড়া ভেঙ্গে ফেলার মতো কোনো কারণও নেই। তারা ওই জায়গাতে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। বগালেকটি সুরক্ষার দায়িত্ব স্থানীয়রা যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে। অন্যায়ভাবে কটেজ ভেঙ্গে দেয়াতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ইউএনও অফিস ঘেরাও ও প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে বাধা দেয়া হয়। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল দস্তরী বলেন, বগালেকের পাড়ে বেশ কয়েকটি টয়লেট রয়েছে। পাড়ের আশপাশে কটেজও নির্মাণ করা হয়েছে। বগালেকের পাড় থেকে টয়লেট ও কটেজ সরিয়ে ফেলার জন্য কয়েকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারা এটা আমলে নেয়নি। যার কারণে বগালেকের সুরক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*