বাঁশ পিডির পর এবার নোটবই শিক্ষকের প্রতি প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন কংজরী চৌধুরী

মুহাম্মদ আবুল কাসেম: আলোচিত সেই বাঁশ kongপিডির পর এবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় গাইড বই থেকে প্রশ্নকরা অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল ওহাবকে খাগড়াছড়ির রামগড়  সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের  সহকারী শিক্ষক পদে বদলির বিষয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

তিনি বলেন- ‘খাগড়াছড়ি ভালো মানুষের বাস। এখানে কোনো খারাপ মানুষের কর্মস্থল হতে পারে না। শাস্তি জনিত বদলি অঞ্চল হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলকে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত এ অঞ্চলের প্রতি অন্যদের মনে নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি করে; যা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অসম্মানের’’।  তিনি জানান, এ বক্তব্য তিনি ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক উপ- পরিচালক মোঃ আজীজ উদ্দীনকে মোবাইল ফোনে নোটবই শিক্ষককে রামগড়ে বদলির বিষয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন।

তিনি কঠোর ভাবে বলেন, শাস্তি জনিত বদলি শিক্ষককে খাগড়াছড়ি জেলার জনগণ গ্রহণ করবেনা । এ নিয়ে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দায় মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নিতে হবে। লোক দেখানো বদলি নয় বা শোকজ নয়, কেলেঙ্কারির’ সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আশা করেছেন।

এদিকে, পাজেপ চেয়ারম্যান মুঠোফোনে রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র সরকারকে বিষয়টি নিয়ে সজাগ থাকতে বলেছেন বলেও জানা গেছে।

এর আগে বলতে হয়, পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর প্রবল আপত্তির মুখে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনায় সরকারি ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ফাইটোসেনেটারি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সাদেক ইবনে শামছ প্রকাশ ‘বাঁশ পিডি’ গত ১৯ এপ্রিল খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করতে পারেনি। পরের দিন ঔই বাঁশ পিডির ঠাই হয় কিশোরগঞ্জে।

প্রসঙ্গত: সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ২০১৬ এর বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন হুবহু গাইড বই থেকে তুলে দেওয়ার শাস্তি হিসেবে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খাগড়াছড়িতে(রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) সহকারী শিক্ষক পদে বদলি করা হয় অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল ওহাবকে। এছাড়াও মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতা ও অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে (মাউশি) নির্দেশ প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*