বাঁশখালীতে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত ৫, আহত পুলিশসহ কমপক্ষে ৪৫

b-1 B-2 b-3 b-4 b-5 b-6 b-8পার্বত্যবাণী ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে ১৪৪ ধারা ভেঙে স্থানীয়দের করা মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং ১৪ জন পুলিশসহ কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুত্বর। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সোমবার বেলা ৩টায় সংঘর্ষ বাধলেও এই উত্তেজনা বেলা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিরাজ করে।

এদিকে আন্দোলনকারী গন্ডামারার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী দাবি করেন গ্রামের ৯ জন লোক পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। অবশ্য সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো লাশ পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্যরাও পুলিশ কোনো লাশের তথ্য দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাঁশখালী হাসপাতালে ১৪ জন পুলিশ, ১জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৪ জন গ্রামবাসী চিকিৎসা নিয়েছেন। তম্মধ্যে ব্যাটালিয়ন আনসার আবদুল মোতালেব (২৬), গ্রামবাসী আব্দুল খালেক, আহমদ ছগির, জহির ও আহমদ ছগির নামের ৪ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ, গ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে বহুমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এই হামলার প্রেক্ষিতে এস আলমের পক্ষে মামলা দায়ের করে। গত ৩ এপ্রিল রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গন্ডামারা থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই গ্রেপ্তারের প্রেক্ষিতে গন্ডামারার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়ার জন্য মুজিব কেল্লা এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এর বিপরীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামশুল আলম মাষ্টার একই স্থানে পাল্টা সমাবেশ ডাক দেন। এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মাইকিং করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান মুজিবকেল্লা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।

সোমবার বেলা ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাঁশখালী থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৪৪ ধারা জানানোর জন্য গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই গুলির আওয়াজে ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে গন্ডামারা ব্রিজ এলাকায় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট পিছু হটে। এদিকে এ ঘটনায় চারদিকে গুজব রটে যায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ জন মারা গেছে। এর পর পর ঘটনাস্থলে সাতকানিয়া সার্কেল এ এসপি এ কে এম এমরান ভূঁইয়া অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হয়।

সূত্র : যমুনা টিভি, কালের কণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*