বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

banhabanduপার্বত্যবাণী ডেস্ক: (১৭ মার্চ/২০১৬): জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যিনি একদিন হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি। অধিকারহারা একটি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা শেখ সাহেরা খাতুনের ৪ কন্যা ও ২ পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৪২ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতায় গিয়ে বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। এসময় তিনি বেকার হোস্টেলে থাকতেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বিএ পাস করেন। শেখ মুজিবুর রহমান ওই সময়ে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময়ে তিনি হোসেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন।
আজন্ম সংগ্রামী এই নেতা সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন একটি জাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার সাহসী, আপসহীন নেতৃত্ব ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে অনুপ্রাণিত হয়ে জেগে ওঠে নির্যাতিত, নিপীড়িত পরাধীন বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ও মুক্তির অদম্য সপৃহায় ঐক্যের সুতোয় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন পুরো জাতিকে। দিয়েছিলেন মরণপণ লড়াইয়ের মূলমন্ত্র। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ নয় মাস লড়াইয়ের পর জন্ম নেয় একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। মাতৃভূমি স্বাধীন করার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতিত জনতার অধিকার আদায় ও জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে যে ক’জন নন্দিত নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের প্রথম সারির একজন। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালিরা আসলে প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। এ উপলব্ধি থেকে ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে দেশে ফিরে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে ছাত্রলীগ গঠন করেন। লক্ষ্য ছিল অধিকারহারা বাঙালিকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করা। ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন তিনি। এটাই ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের একমাত্র বিরোধী দল। তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান নবগঠিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। এরপর তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। তবে পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনের বিপুল জয় মেনে নেয়নি। বঙ্গবন্ধু নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন ও চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের ওপর চালায় গণহত্যা। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাধীনতার ঘোষণা ও বিদ্রোহের অপরাধে সেখানে তার গোপন বিচার হয়। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বীর বাঙালি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। বিশ্ব জনমতের চাপে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পাকিস্তান থেকে লন্ডন হয়ে দেশে ফেরেন বাঙালির প্রিয় এই নেতা। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বদেশভূমিতে ফিরে এসে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন তিনি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে মাত্র সাড়ে ৩ বছর বেঁচেছিলেন। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্য তিনি ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত হন। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে আজ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পালন করা হবে বিস্তারিত কর্মসূচি। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা সদরে দিবসটি উপলক্ষে শিশু সমাবেশ, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোয় দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্‌যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এরপর বাদজোহর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেবেন। এ ছাড়াও শিশু সমাবেশ, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।  টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক  সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও ১৮ই মার্চ শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে  আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*