ফের উত্তপ্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম: ব্রাশ ফায়ার, বন্ধ নির্মাণ কাজ

Birashi Tilaনিজস্ব প্রতিবেদক: ফের মাথাছাড়া দিয়ে উঠছে পাহাড়ের উপজাতিয় অস্ত্রধারী সংগঠনগুলো। চাঁদার দাবীতে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফাঁকা জায়গায় ব্রাশ ফায়ার দিয়ে আতংক ছড়িয়ে নির্মানাধীন ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে অস্ত্রধারী উপজাতিয় সন্ত্রাসীরা।

আজ (মঙ্গলবার)দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে জেলার মাটিরাঙা উপজেলাধীন তবলছড়ি সড়কস্থ বিরাশিটিলা ও হাতিমুড়া প্রকাশ ঝরনাটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটায় উপজাতীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আধ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ টীম নিয়ে পৌছে তবলছড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস.আই রুহুল আমিন। পরে ঘটনাস্থল ও আশ-পাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিজিবি সদস্য টহল দিতে দেখা যায়। তবে ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করার এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কোন খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পরই নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় থমথমে অবস্থাসহ অজানা আতংকে ভূগছে ব্রিজের নির্মাণ শ্রমিকরা।

এলজিইডির অর্থায়নে ২টি নির্মানাধীন ব্রিজের নির্মাণ শ্রমিক  ভোলা জেলা হতে আগত মো. মনির হোসেন (৪৮) জানান, দীর্ঘদিন যাবত ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা মুঠোফোনে নির্মাণকাজের উপর মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল। গত মাসে ভোলা জেলার বাসিন্দা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. মোশারফ সাইডে আসলে পাশ্ববর্তী জংগল থেকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা অস্ত্র দেখিয়ে চাঁদার দাবীতে তাড়া দিলে পাহাড় থেকে পড়ে ঠিকাদার দুই হাত ভেংগে যায়। তিনি বর্তমানে ভোলায় চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, আজ (মংগলবার) দুপুরে কাজ চলাকালীন হঠাৎ বিরাশিটিলা এলাকায় ব্রিজের সন্নিকটে এসে প্রায় ১১জন উপজাতিয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে ২০-৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এবং ফেরার পথে ব্রাশ ফায়ার করে। পর পর গুলির আওয়াজে কর্মরত ১৫জন শ্রমিকরা দিক বেদিক ছুটে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। তন্মধ্যে দুই অস্ত্রধারীর পরনে বিজিবি বাহিনীর পোষাকও ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। পরে নিরুপায় হয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। তিনি জানান, ব্রিজ নির্মাণে অস্থায়ী ভাবে অবস্থানরত শ্রমিকরা আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে, ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা অনেকেই ব্যক্ত করেন, অস্ত্রধারীদের ছড়িয়ে দেয়া আতংকের ফলে নির্মাণাধীন ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ হলে ওই সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়বে তবলছড়ি, পানছড়িবাসী সহ নানান পেশাজীবী মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*