পোস্টকারীর খবর নাই: শেয়ারকারী শ্রীঘরে

ranga-pajepনিজস্ব প্রতিবেদক: সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি বিকৃত করা ছবি সম্বলিত একটি পোস্ট শেয়ার করায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অফিস সহকারি আহমদ উল্লাহ এখন শ্রীঘরে। অথচ এই পোস্টটির পোষ্টকারীর কোন খবর নেই। শুক্রবার দুপুর দুইটায় তাকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রশিদ জানান, জেলা যুবলীগের নেতা ঝিনুক ত্রিপুরা নামে একজনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আহম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ সংশোধনী ২০১৩ এর ৫৭(২) ধারায় কোতয়ালী থানায় দায়ের করা মামলা নাম্বার হলো-৯। দুপুরে ওই মামলা দায়েরের পরপরই কোতয়ালী থানা পুলিশ অভিযুক্তকে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন, মামলার আইও এসআই লিমন বোস। এ ব্যাপারে অফিস সহকারি আহম্মেদ উল্লাহ দাবি করেন, এটা তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির প্রতি তার নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ফলশ্রুতিতে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ তার প্রতি আস্থা ও আন্তরিকতা দেখে একটি মহল ঈর্শান্বিত হয়ে এই ষড়যন্ত্র করেছে। কারণ ওই মহলটি বেশ কিছুদিন যাবৎ তাকে তার পদ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলেও তার দাবি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ না হওয়ার কারণে তিনি এ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়েছেন। এদিকে ফেসবুকের ওই পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই স্ট্যাটাসটি কপি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে সরব হয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা। পাশাপাশি এদিন দুপুরেই রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন যুবলীগের নেতা ঝিনুক ত্রিপুরা। মামলার বাদী ঝিনুক ত্রিপুরা বলেছেন, দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও নামে একটি আইডি থেকে আহম্মদ উল্লাহ নিজের ফেসবুক একাউন্টের টাইমলাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর বিকৃত ছবির পোস্ট শেয়ার করেছেন। এই কর্মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পরিবার তথা পুরো দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছেন হম্মেদ উল্লাহ।

এদিকে, স্থানীয়রা ফেইক আইডি ব্যবহারের মাধ্যমে যে বা যারা তথ্য প্রযুক্তি আইনের ব্যর্থয় ঘটাচ্ছেন তাদের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সনাক্ত করা সম্ভব হলেও কেন তা করা হচ্ছে না। স্থানীয়রা প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*