পুলিশের অপকর্ম বিচ্ছিন্ন ঘটনার তালিকা দীর্ঘ

poমোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু ও সৈয়দ আতিক : প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

দায় এড়াতে পারে না সরকার। দলীয় প্রভাবমুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা -মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের
দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন পুলিশের কিছু সদস্য। বাড়ছে তাদের অপরাধপ্রবণতা। খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ আর ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগ উঠছে হর-হামেশা। তাদের এমন আচরণে দেশজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। এমনকি সরকারদলীয় কোনো কোনো সংসদ সদস্যও এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অপরাধী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি ‘দৃশ্যমান’ করারও সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের উল্লিখিত অপরাধকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে মন্তব্য করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দু-চারজন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপকর্মের জন্য পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেও ফের মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে বিষয়টি এমন নয়। মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে। বিচ্ছিন্ন ঘটনার তালিকা যখন দীর্ঘ হয়, তখন তা আর বিচ্ছিন্ন থাকে না। পুলিশ বিভাগের মোট সদস্যের তুলনায় অপরাধী পুলিশের সংখ্যা দৃশ্যত কম। কিন্তু এতে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তি। যার দায় এড়াতে পারেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সরকারও। অপরাধী পুলিশের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে তাদের অপরাধপ্রবণতা। এটি আর কিছুদিন অব্যাহত থাকলে তা ধীরে ধীরে ‘স্থায়ী সংস্কৃতিতে’ রূপ নিতে পারে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক (তদন্ত) নূর খান লিটন শুক্রবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, যখন কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহার করা হবে, তখন ওই বাহিনীর সদস্যরা মনে করবেন রাষ্ট্র কিংবা সরকার তাদের ওপর নির্ভরশীল। আর তখনই তাদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব কাজ করবে। বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে যদি আঞ্চলিকতা কিংবা গোষ্ঠীগত বিষয়টি প্রাধান্য পায়, তখন ওই বাহিনীর সদস্যরা কাউকে তোয়াক্কা করবে না, এটাই স্বাভাবিক।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, দু-একটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলা যেতে পারে। একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে সরকার বা পুলিশের পক্ষে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে চালিয়ে দেয়া হলেও এগুলোর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সরকার এসব ঘটনায় দায় এড়াতে পারে না। যদি ঘটনাগুলো আমরা বিচ্ছিন্ন হিসেবেও দেখি তারপরেও ঘটনার দায়ভার অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে। একটা ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তো এমন ঘটনা অহরহ ঘটতেই থাকবে। তিনি বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নিজেরাই আইন ভাঙছেন। তার ভাষায়, বেড়ায় যদি ক্ষেত খায় তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তিনি বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে, গভীর সংস্কার করতে হবে। এখানে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
সাবেক আইজিপি এমএ কাইয়ুমের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে জড়িয়ে পড়ায় পুলিশে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশের সাবেক ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদস্যদের বড় একটি অংশ সব সময় ক্ষমতাসীন দলের উচ্চমহলে যোগাযোগ রাখছে। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকায় পুলিশের এসব সদস্য সব সময় বেপরোয়া আচরণ করে থাকেন। এসব সদস্যের চেইন অব কমান্ড ভাঙার প্রবণতাও বেশি। দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে এ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সরকারও।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কি কারণে পুলিশের আচরণসহ অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারণে নিচের কর্মকর্তারা কোনো শিকার হচ্ছে কিনা এসব এখন খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। কারণ, বেশিরভাগ সময় যাদের শাস্তির আওতায় আনা হয় তাদের পদমর্যাদা ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত। তাছাড়া কঠিন শাস্তির মতো অপরাধ করে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উপায়ে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির কারণে এসব সদস্যদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডই তা প্রমাণ করে। এ বেপরোয়া হয়ে উঠার প্রধান কারণ হল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না পাওয়া, পয়সা দিয়ে চাকরিতে ঢোকা, দায়বদ্ধতা না থাকার কারণে পুলিশ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদের কারণেই বারবার পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, পুলিশ যতভাবে মানুষকে হয়রানি করছে তার সব খবর পত্রিকায় আসে না, আর এলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। এ কারণে তাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে অপরাধ করলে কিছু হয় না। শুধু কঠোর আইনপ্র্রণয়নের মাধ্যমে তাদের এ বেপরোয়া প্রবণতাকে দূর করা যেতে পারে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও অপরাধী পুলিশ সদস্যদের কঠোর ও দৃশ্যমান শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে রাজধানীতে চা দোকানি বাবুলের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ ঘটনার দায়ের হওয়া মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে এক মাসের মধ্যে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দেয়া তার বক্তব্যে পুলিশের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নিলে পুনরাবৃত্তি হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অসদাচরণে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এ ব্যাপারে ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যাও দাবি করেন এ সংসদ সদস্য। তবে সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।
সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি ঘটনা : ৯ জানুয়ারি রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী টহল পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদারসহ পুলিশ ও আনসারের পাঁচ সদস্য রাব্বীকে আটকের পর ৫ লাখ টাকা দাবি করে তারা। টাকা না দেয়ায় তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ৫ দিনের মাথায় রাজধানীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাশকে পুলিশ নির্দয়ভাবে পেটায়। যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আরশাদ হোসেন আকাশের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ বিকাশকে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিকাশ চন্দ্র দাশ।
একই দিন (১৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ওভারব্রিজের ওপর এক হিজড়াকে যৌন হয়রানি ও মারধর করার অভিযোগ ওঠে। কমলাপুর রেল পুলিশের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন হান্নান ওরফে টোকাই হান্নান নামে এক হিজড়া। রেল পুলিশের সদস্যরা এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়। এমনকি এ ব্যাপারে অভিযোগ করতে গেলে কমলাপুর জিআরপি পুলিশ তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয় বলেও অভিযোগ তার। তবে জিআরপি থানা পুলিশ প্রথম থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
১৬ জানুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার শিহিপাশা গ্রামে পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হন ব্যবসায়ী বাদল সেরনিয়াবাত। রাস্তার পাশে গাছ ফেলে রাখার অপরাধে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ওই ব্যবসায়ীকে নির্দয়ভাবে প্রহার করে। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে জেলা পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান ওসির গাড়িচালক কনস্টেবল মোকলেসুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের (ক্লোজড) নির্দেশ দেন। তবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওসি মনিরুল ইসলাম।
এছাড়া ৩১ জানুয়ারি মোহাম্মদপুরের শ্যামলী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার দিন শ্যামলী আশা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফারহানা আক্তার ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বই কিনতে শিয়া মসজিদের দিকে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। এ সময় মসজিদের বিপরীতে থাকা আদাবর থানার এসআই রতন কুমারসহ পুলিশের তিন সদস্য তাকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
এ ঘটনার দু’দিন আগে (২৯ জানুয়ারি) উত্তরায় এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তার বান্ধবীকে রাতভর আটকে রেখে ইয়াবা সেবনকারী হিসেবে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার অভিজাত ব্রুকলি রেস্টুরেন্ট থেকে বান্ধবীকে নিয়ে বের হন ওই ম্যাজিস্ট্রেট। পথে তিন পুলিশ সদস্য তাদের আটক করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে ইয়াবা সেবনকারী বানানোর হুমকি দিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে। তবে লোকলজ্জার ভয়ে তিনি পুলিশের কাছে পরিচয় দেননি। ভোরে এক বন্ধুর মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি ছাড়া পান। পরে বিষয়টি তিনি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে জানান। অভিযাগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয় উত্তরা পশ্চিম থানার এক এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আবদুর রউফ বাহাদুর, এএসআই মারুফ হোসেন ও কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা। পাশাশি বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী কমিশনারকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
সর্বশেষ বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শাহআলী থানার গুদারাঘাট এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় পুলিশ চা দোকানি দেলোয়ারকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। এরই একপর্যায়ে পুলিশের সামনেই সোর্স দেলোয়ার চা দোকানি বাবুলকে ধাক্কা দিয়ে স্টোভের (কেরোসিনের চুলা) ওপর ফেলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই বাবুলের পুরো শরীরে আগুন ধরে যায়। এ সময় মাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকলেও পুলিশ সদস্যরা বা অন্য কেউ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেনি। পরে খবর পেয়ে বাবুলের স্বজনরা ছুটে এসে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। এর ১৬ ঘণ্টা পর বাবুল মারা যান।
এ ঘটনায় পুলিশকে অভিযুক্ত করে মামলা করতে গেলেও থানা পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। নিহত বাবুলের ছেলে রাজু বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা থেকে বলা হয়, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হবে না। মামলা করতে হলে মাদক ব্যবসায়ী পারুল ও শংকরের নামে মামলা করতে হবে।
তবে অভিযোগ ওঠার পরপরই শাহআলী থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রথমে প্রত্যাহার ও পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার শাহআলী থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডলকেও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। তবে এসব তদন্ত কমিটির রিপোর্টের একটিও অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে একের পর এক ঘটনায় শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা  বলেছেন, সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিব্রত হয়েছেন। এসব ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*