পুরো গ্রামের মানুষকে দাওয়াত খাওয়ালেন পাজেপ সদস্য খগেশ্বর

ProdipParaনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি লতিবান ইউনিয়নের দুর্গম অনগ্রসর একটি গ্রামের নাম প্রদীপ পাড়া। যে পাড়ায় রয়েছে পানির চরম সংকট। পৌছেনি বিদ্যুৎ, নেই কোন ডিজিটালের ছোয়া। পানছড়ি সড়ক হতে আনুমানিক ৫মাইল পূর্বে এ গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। ৫মাইল সড়কই কাঁচা। পুরো গ্রামেই চোখে পড়েনি কোন পাকা ভবন। এমন একটি এলাকার পুরো গ্রামবাসীকে দুপুরে ভাতের চুলোয় আগুন না দিতে জানিয়ে দাওয়াত করে খাওয়ালেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও লতিবান ইউনিয়নের পর পর তিনতিনবারের চেয়ারম্যান শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রদীপ পাড়া তার বড় ভাইয়ের বসতবাড়ীর উঠানে প্রয়াত পিতা-মাতার স্মরণে এ আয়োজন করেন। খাবার মেন্যুতে মুরগী, মাছ, ছাগলের মাংস ও সব্জী থাকলেও পরিবেশন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগতদের মধ্যে বিত্তবান, মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র সকলকেই একসাথে বসতে হয়েছে শীতলপাটিতে। তালাবাসনের পরিবর্তে খাবার পরিবেশন করা হয় আদ্যিযুগের সেই কলাপাতায় ।

এর আগে বুধবার থেকে শুরু হয় পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরার প্রয়াত পিতা ব্রতকুমার ত্রিপুরা ও মাতা কাঞ্চনশ্রী’র মৃত্যুতে তিনদিন ব্যাপি ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে এ ধর্মসভার ইতি টানে।

এদিকে, বিকালে ধর্মসভার পর পরই প্রদীপ পাড়া শিব মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় দাওয়াতে আসা এলাকার প্রায় ৭০টি পরিবার নিয়ে মত বিনিময় সভা। মতবিনিময় সভায় প্রদীপ পাড়ার গর্বিত সন্তান পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয়রা। সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন পার্বত্য জেলা পরিষদের এ সদস্য। তিনি বলেন, প্রদীপ পাড়া একটি ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা অধ্যুষিত আদি এলাকা। শুধুমাত্র সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে এ এলাকার উন্নয়ন ঘটেনি বলেনি তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি এ এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচিরেই খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বেই লাঘব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন জাবারাং এনজিও’র কো-অর্ডিনেটর দয়ানন্দ ত্রিপুরা, নালকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অমর সিংহ ত্রিপুরা, প্রাক্তণ মেম্বার কিরণ ত্রিপুরা ও সমাজসেবক কিরণ লাল ত্রিপুরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন মানিকসিংহ কার্বারী।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রদীপ পাড়া এলাকাটি একটি অনগ্রসর পশ্চাৎপদ এলাকা। এ এলাকায় পৌছেনি বিদ্যুৎ। প্রায় সাড়ে ৫মাইল রাস্তা এখনো কাচা। শুকনা মৌসুমে জনসাধারনের চলাচল থাকলেও বর্ষা মৌসুমে পায়ে হেঁটেও চলাচল অসম্ভব বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া প্রদীপ পাড়াবাসীর একমাত্র শিবমন্দিরটিও এখনো মাটিরগুদাম ও জরাজীণ ঢেউটিন দিয়ে তৈরি। শিক্ষার হার এতই নগন্য যে, এলাকাবাসী নানা বিষয়ে অসচেতন। একমাত্র সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত চালু থাকলেও শিক্ষক রয়েছে মাত্র-০৪জন। এছাড়াও স্কুল ঘরটিও নাজুক। কাঠের তৈরী জরাজীর্ন। স্থানীয়রা জানান, পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরার মাতার মৃত্যুতে খাগড়াছড়ি সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ জেলার অনেক কর্তাব্যক্তি গমন করেছেন ওই এলাকায়। সরেজমিন উপলব্ধি করেছেন এলাকার বেহাল দশা। এলাকাবাসীর আশাবাদ  এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ উন্নয়নের ছোঁয়া পড়বে অচিরেই এ পশ্চাৎপদ এলাকায়। পরে স্থানীয় হত দরিদ্রদের মাঝে নিজস্ব সংস্কৃতির কাপড় বিতরণ করেন পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরার সহধর্মিনী চন্দনা রোয়াজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*