পিকনিকের অন্তরালে গহীণ অরণ্যে সশস্ত্র ইউপিডিএফ: থেমে নেয় যৌথ অভিযান

updfবিশেষ প্রতিনিধি: পাহাড়ের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করায় চরম খেসারত দিতে হচ্ছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) ইউপিডিএফকে। আঞ্চলিক সংগঠনের নামে সাধারন যুবকদের সংঘটিত করে সংগঠনটি যেমনি যুব সমাজের হাতে অস্ত্র তুলিয়ে দিচ্ছে তেমনি সর্বনাশ করে দিচ্ছে অনেকে তরুনের বরেণ্য শিক্ষা জীবন। সাধারন জনগণের ব্যবসা বাণিজ্য, পরিবহণ সেক্টরকে জিম্মি করে টাকার পাহাড় গড়েছে এই সংগঠনটি। শান্তিচুক্তির পর বিভক্ত এই সংগঠনের কাছে এখন পাহাড়ের বাঙালিরাই শুধু নিরাপদহীনতায় নয়, বরং গ্রামে গ্রামে ইউপিডিএফ’র হাতে জিম্মি সাধারন পাহাড়ীরা।
গত শুক্রবার জেলা শহরের জামতলীয়স্থ এলাকার বাসা হতে যৌথ অভিযানে সংগঠনটির নেতা প্রদীপন খীসার বাসা হতে প্রায় ৮০লক্ষ টাকা জব্দ ও খরচের হিসাব তালিকা এখন প্রশাসনের হাতে। এমন খবরটি যেমনি জাতীয় দৈনিক, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াসহ অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপকতার সহিত প্রচারের পর হতভম্ব হয়ে পড়েছে জেলার পাহাড়ী-বাঙালি আমজনতা। তবুও থেমে নেয় ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজি। এবার ভিন্ন কায়দায় সংঘটিত হচ্ছে সংগঠনটি নেতাকর্মীরা। বেঁছে নিয়েছে গহীণ অরণ্যে পিকনিকের অন্তরালে সাংগঠনিক বৈঠকখানা।
জেলার একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত  পিকনিকের নাম করে ১০ ফেব্রুয়ারি জেলার সীমান্তবর্তী পানছড়ির ভাইগ্যাপাড়া নামক স্থানে জব্দকৃত ৮০লক্ষ টাকার বিষয়ে কার্য পরিধি নির্ধারন সংক্রান্তে বৈঠকে বসে ইউপিডিএফ’র নেতাকর্মী। তাদের বৈঠককে নিরাপত্তা দিতে পাহারায় বসানো হয় ২০-২৫জনের সশস্ত্র প্রশিক্ষিত একটি দলকে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান খাগড়াছড়ি সদর জোনের ৩টি টহল দল। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে অপারেশন দলটির এলাকায় প্রবেশে টের পেয়ে পন্ড হয়ে যায় পিকনিকের অন্তরালে গোপণ বৈঠকটি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে লতিবান ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শান্তিরঞ্জন চাকমা, উল্টাছড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত চাকমার সাথে কথা বলেন। এ দুজনের তাদের নাম পরিচয় গোপণ রেখে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কোনভাবে ছাড় পান। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয় যৌথবাহিনী।
পানছড়ি পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে ১টি জেনারেটর, ১টি হোন্ডা এবং পানির পাম্প সহ তৈজসপত্র মিললেও বৈঠকে আগত সশস্ত্র গ্রুপটি ঘা ঢাকা দেয়। স্থানীয় এক পাহাড়ী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুকে বলেন, ওই স্থানে ৪০ থেকে ৫০জনের ইউপিডিএফ’র একটি সশস্ত্র দলের জন্য খাবার আয়োজন করা হচ্ছিল। এমন সময় ঘটনাস্থলে যৌথবাহিনী পৌছার খবর পেয়ে তারা এলাকা ত্যাগ করে। এদিকে, ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করতে না পারায় স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমার সাথে টহল অধিনায়ক বন্ধুত্বসূলভ আলাপ-আলোচনা করে অপারেশন টীম ফিরে আসলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। এলাকার মঙ্গলচাঁন চাকমা জানান, পরে ওই খাবারগুলো দিয়ে স্থানীয়রা বনভোজন করে থাকে।
জেলার ইউপিডিএফ’র চাঁদার যাতাকলে পিষ্টদের একাধিকজন জানান, পাহাড়ের আঞ্চলিক এই সংগঠনটি চাঁদার টাকা দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করে শক্তিবৃদ্ধি করে জিম্মি করেছে পাহাড়ের সাধারন পাহাড়ী-বাঙালি আমজনতাকে। এই সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধে সেনা অভিযানসহ অভিযান অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*