পাহাড়ে বাঙালি সংগঠনে ভাঙন ! পার্বত্য বাঙালি সংগ্রাম পরিষদের আত্নপ্রকাশ

IMG_5905মুহাম্মদ আবুল কাসেম: কোন প্রকার ভাঙনের সুর না দেখিয়ে হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দিয়েছে সর্বক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙালিদের সাংবিধানিক আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও তার সহযোগি সংগঠন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ নামক দুটি আঞ্চলিক সংগঠনে। বৃহত্তর এ দু’টি আঞ্চলিক সংগঠনে প্রতিনিধিত্ব ও সংগঠন সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও বাঙালী জনগোষ্ঠির দাবী পূরণে ব্যর্থ এবং নাগরিক পরিষদের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অন্তদ্বর্ন্ধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র পরস্পর কোন্দলের অভিযোগ এনে সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার পরিচিতমূখসহ সিংহভাগ নেতাকর্মী একই শ্লোগানে ‘পার্বত্য বাঙালি সংগ্রাম পরিষদ’ নামে নতুন সংগঠনের আত্নপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির নাম প্রকাশ করেন এডভোকেট মো. আবদুল মমিন। এসময় ৭ দফা দাবী পেশ করেন পার্বত্য বাঙ্গালী সংগ্রাম পরিষদ ও সহযোগী সংগঠন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এর আগে বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নিকট ৭দফা দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন আত্নপ্রকাশিত সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে পার্বত্য বাঙ্গালী সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক এড. মো. আবদুল মমিন জানান, সংগঠনের প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩১সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হবে। এসময় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক সাহাজল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জেলা কমিটির আহবায়ক ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম মাসুম রানাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তথাকথিত চিটাগং হিল ট্রেক্টস রেগুলশনসহ বিতর্কিত আইন বাতিল, ‘উপজাতি অধ্যুাষিত অঞ্চল’ শব্দ বাতিল, ল্যান্ড কমিশনের কার্যক্রমে তিন জন  বাঙালি প্রতিনিধি নিযুক্ত, ভূমি জরীপ না হওয়া পর্যন্ত ল্যান্ড কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ,  সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার বন্ধ রাখা, ইউএনডিপি মিশন বন্ধ, পার্বত্য এলাকায় র‌্যাব ইউনিট স্থাপন, জেলা শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন,পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্তকরণ, সেনা ক্যাম্প পুন:স্থাপন, পার্বত্য অঞ্চলে অস্ত্র চোরা চালান প্রতিরোধসহ ৭ দফা দাবী দ্রুত পূরণ ও কার্যকর করার দাবী জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*