পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর কাছে জিম্মি ইউপি সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে খাগড়াছড়ি জেলার ৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ-জেএসএস এবং জেএসএস সংস্কার নামক দলগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে জাতীয় রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অভিযোগ ওঠছে, যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থী এসব আঞ্চলিক দলের টিকেট গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক তাদের হুমকি প্রদান করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যারাই বা জাতীয় দলের সমর্থন পাবেন তাদেরও দিতে হবে দাবীকৃত মোটা অংকের অর্থ, করতে হবে নিকোজিউশেন। এ কারনে পাহাড়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিকট দলীয় সমর্থনের চেয়ে মুখ্য হয়ে পড়েছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সমর্থন। দলীয় প্রার্থীরা প্রাণভয়ে এমনটাই অভিযোগ লিখিত আকারে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও  দলের সভাপতি সম্পাদকের নিকট লিখিত আকারে না জানালেও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ ও জেলা বিএনপি’র একাধিক সূত্র এবং ভূক্তভোগী একাধিকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়।

Jimmiনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন হতে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী বলেন, “দীর্ঘ ২বছর আগ থেকে পরিকল্পনা নিয়েছি ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার”। এলাকাবাসীর সমর্থন থাকলেও কিন্তু ভিতর পার্টির অনুমোদন না আসায় এখনো তা অনিশ্চয়তা মুখে। তিনি বলেন, যে প্রার্থী ভিতর পার্টির সমর্থন পাবে না সে প্রার্থী নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরাজয় নিশ্চিত করা হবে। প্রার্থীসহ তার পরিবার পরিজনের উপর বয়ে আসবে অজানা খর্গ। তবে ভিতর পার্টি বলতে কোন পাহাড়ি সংগঠন তাও জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সম্ভাব্য প্রার্থী।

খাগড়াছড়ি জেলা আ’লীগের সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সহ যে কোন নির্বাচনে সমতলে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী লড়াই হলেও পার্বত্য খাগড়াছড়িতে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপট। পৌরসভা নির্বাচনে এসব আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নামমাত্র প্রার্থী দিয়ে অংশ নিলেও উপজেলা নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনে নিজেদের মনোনীত ও অর্থের বিনিময়ে আসা প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে মৌসুমী ব্যবসা তথা নির্বাচনী বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন আঞ্চলিক দলগুলো। ফলে সরকার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগও প্রার্থী দিতে নানা সমীকরণ কষিয়ে প্রার্থীতা বাছাই করে উপজেলা কমিটির নিকট প্রেরন করে আসছেন। ইতোমধ্যে একাধিক উপজেলায় ইউপি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সূত্রটি অভিযোগ করেন, জনগণের সেবার উদ্দেশ্যে নির্বাচনী এলাকা হতে যোগ্য কোন প্রার্থীই এসব আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দৌরাত্নে ও প্রাণভয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার মানসিক চিন্তা ধারনা থাকলেও তা হয়ে উঠে না। এসব কারনে দলীয় প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও দলীয় প্রার্থীদের জয় অনেকটাই অনিশ্চিতার মুখে ।

এদিকে, জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, বিগত উপজেলা নির্বাচনেও সরকারের দলের প্রভাবের পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোর দৌরাত্ন ও আধিপত্যের কারনে সুনিশ্চিত জয় থেকেও বিএনপি প্রার্থীরা পরাজয়ের স্বাদ নিয়েছিল। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতা বাছাইয়ে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হতে কিছু সম্ভাব্য প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেয়া হলেও একাধিক পাহাড়ী অধ্যুষিত এলাকায় প্রার্থী খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য ইউপি নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েঁছে আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন। যেমনটাই ঘটেছিল উপজেলা নির্বাচনকালে পানছড়িতে। পাহাড়ী অধ্যুষিত একাধিক এলাকায় আওয়ামীলীগ বিএনপি’র কোন প্রার্থীতো দূরের বিষয় প্রচারনাও চালাতে দেয়নি আঞ্চলিক দলের ক্যাডাররা। তৎসময়ে ভাইবোনছড়া এলাকায় ১৪টি এলাকাকে অবরূদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

অপরদিকে, একটি গোপণ সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ আবেদনফরম তৈরি করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিকট লিখিত আকারে আবেদনপত্র জমাদানের জন্য এলাকায় প্রচারনায় চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবীকৃত অর্থ যে প্রার্থী দিতে পারবেন সেই প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এমনটাই অঘোষিত হুকুমজারী করে রেখেছেন পাহাড়ের এসব সংগঠনগুলো।

এসব সংগঠনগুলোর চাপিয়ে দেয়া শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যারা প্রার্থীতা চূড়ান্ত করতে পারবেন তারাই আবার দল থেকে সমর্থন নিলেও নিতে পারবেন অন্যথায় এলাকা ছাড়ারও হুমকি অব্যাহত রেখেছে এসব সংগঠনগুলোর পক্ষ হতে।

স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাহাড়ী এলাকায় যতক্ষন না হওয়া ভিতর পার্টি নামক এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে না ওঠবে ততদিন যোগ্য প্রার্থীরাসহ সাধারন ভোটাররা শোষনের শিকার হবেন এবং ওইসব এলাকায় অন্ধত্ব দাসত্ব রাজত্ব অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনও অনেকাংশে নির্বিকার ভূমিকায় থেকেই যাবে। তবে এ বিষয়ে ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র নিকট জানতে চাইলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

প্রসংগত: আগামী ২৩ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার ৩৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার তপশীল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*