পার্বত্য ভূমি কমিশনের বৈঠকের প্রতিবাদে তিন পার্বত্য জেলায় চলছে হরতাল

হরতাল-১নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ ও সংশোধনী ২০১৬ বাস্তবায়নের জন্য খুব তড়িগড়ি ৪ঠা সেপ্টেম্বর বৈঠক আহবান করার প্রতিবাদে  তিন পার্বত্য জেলায় চলছে ৫ বাঙালি সংগঠনের ডাকে আজ (রোববার) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি। হরতালে তিন পার্বত্য জেলার জেলা শহর সবকটি উপজেলায় বন্ধ রয়েছে আন্ত: ও দুরপাল্লার যান চলাচল। পাশাপাশি শহরে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট।

হরতালের চিত্র নিয়ে প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:

খাগড়াছড়ি: টায়ারে আগুন, খণ্ড খণ্ড মিছিল ও পিকেটিংয়ের ম্যে দিয়ে খাগড়াছড়িতে সর্বাত্মক সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। হরতালের কারণে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে শহরের অধিকাংশ  দোকানপাট। হরতালের কারনে চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রী সাধারন ও শিক্ষার্থীরা। শহরে রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত টমটম চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

সকাল থেকে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাঙালি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুম রানার নেতৃত্বে সড়কের ওপর টায়ার জালিয়ে, খণ্ড খণ্ড মিছিল করে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ রয়েছে সতর্ক অবস্থায়।

রাঙামাটি: হরতালের শুরুতেই রোববার সকাল থেকে রাঙ্গামাটি শহরের রাস্তায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটাররা বিক্ষোভ করছে। সকাল থেকে দুরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলার অভ্যন্তরীণ নৌ-পথের ৬ টি রুটে কোনো নৌযান চলাচল করছে না।শহরের তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার, বনরূপা, কলেজ গেইট এলাকায় সকল দোকান পাট বন্ধ রয়েছে।
বাঙ্গালী সংগঠন গুলোর নেতা-কর্মীরা রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছে। তারা রাঙ্গামাটি প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি ও কলেজ গেইটে বেশ কয়েকটি গাড়ীকে আটকে দিয়েছে।
শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এছাড়া মোবাইল টিমের মাধ্যমেও শহরে বাড়ানো হয়েছে পুলিশী টহল।

বান্দরবান: সকাল থেকেই বাঙালি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে বান্দরবান কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, সুয়ালকসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়।এ ছাড়া শহরের ট্রাফিকমোড়, বালাঘাটা, হিলবার্ড মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে হরতাল সমর্থকরা।হরতালের কারণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিসহ অভ্যন্তরীণ সবগুলো রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের দোকানপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও খোলেনি।

হরতাল পিবিসিপিপার্বত্য নাগরিক পরিষদ জেলা শাখা সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধনী আইন বাতিল এবং রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সভাকক্ষে ভূমি কমিশন রোববার সভা ডাকার প্রতিবাদে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালি সংগঠনের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি চলছে। ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী বাতিল করা না হলে লাগাতার হরতাল কর্মসূচিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ জানান, বাঙালি সংগঠনগুলোর ডাকে হরতাল কর্মসূচি চলছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

প্রসংগত:  গত বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে হরতাল কর্মসূচির ঘোষনা দেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া।স্থানীয় ৫ টি বাঙ্গালী সংগঠন সমূহ হচ্ছে: পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য গণ পরিষদ, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র ঐক্য পরিষদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*