পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স উদ্বোধনে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য বাঙ্গালী সংগ্রাম পরিষদ

cht complexখাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকায় বেইলী রোডস্থ এলাকায় নির্মিতব্য “পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স” এর অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ প্রদর্শন করায় প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য বাঙালি সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার  সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এড.মো:আবদুল মমিন স্বাক্ষরিত লিখিত এক বিবৃতিতে দাবী করে অবিলম্বে উক্ত আদেশপত্র প্রতাহার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ১০০ জন বাঙ্গালী ও ১০০ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়ে সাংবিধানিক সমতা সৃষ্টি করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদের বিধান মতে “বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙ্গালী এবং নাগরিকগন বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন মর্মে সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরেও এ অঞ্চলের বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিকভাবে সাংবিধানিক অধিকার হতে বঞ্চিত করে অবহেলিত জাতি হিসাবে পরিগণিত করার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আজও অব্যাহত রয়েছে। যারা এই অঞ্চলের বাংলাদেশের সংবিধানকে অস্বীকার ও পদদলিত করে আসছে তারাই সবসময় সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিবৃতি আরো উল্লেখ করা হয়,  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উন্নয়ন শাখা হতে উপ-সচিব বিদুষী  চাকমা স্বাক্ষরিত স্বারক নং ২৯. ০০. ০০০০. ২২৫. ০১৪. ০১২. ১৫.৩৫৯, তারিখ০৭/০৪/২০১৬ ইং মূলে চেয়ারম্যান, পার্বত্য জেলা পরিষদ, রাঙ্গামাটি/বান্দরবান/খাগড়াছড়ি’তে প্রেরিত আমন্ত্রনপত্রে উল্লেখ করা  হয়েছে যে, বেইলী রোডে নিমির্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আগামী ০৮ মে/২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। আমন্ত্রন পত্রে আরো জানানো হয় সংশ্লিষ্ট জেলা হতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ১০০ জন পুরুষ ও ১০০ জন মহিলা মোট ২০০ জন ঢাকায় নেয়া, তাদের আবাসন সহ খাবার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।

পার্বত্য বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর প্রশ্ন হচ্ছে এই কমপ্লেক্স এর নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কমপ্লেক্স দেয়া হয়নি, যেখানে বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে আমন্ত্রন হতে বঞ্চিত করার কোন যৌক্তিক কারন থাকতে পারে না। তাহলে এঅঞ্চলে বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও সংঘাত কারা সৃষ্টি করছে তা দিবালোকের মত স্পষ্ট। সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক যে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন অসাংবিধানিক।  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এরূপ বৈষম্যমূলক আচারনে বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী ক্ষুদ্ব ও হতাশাগ্রস্থ। এধরণের বৈষম্য মূলক পত্র চালাচালি বন্ধ করা না হলে বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারী দেন সংগঠনটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*