পাজেপ চেয়ারম্যানের বরাতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

৩ এপ্রিল-২০১৭ পার্বত্যবাণী অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘উন্মুক্ত টেন্ডারে নিকুজেশন প্রশ্নই ওঠে না: পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি ঠিকাদার কল্যান সমিতির সদস্য সচিব দিদারুল আলম। লিখিত বক্তব্যে তিনি ঠিকাদার কল্যান সমিতির পক্ষে পাজেপ চেয়ারম্যান, খাগড়াছড়ির বক্তব্যকে মিথ্যা বানোয়াট আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

তিনি লিখিতভাবে জানান যে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজের ৭টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১০১ গ্রুপ কাজ উন্মুক্ত টেন্ডার করলেও ৮৭ গ্রুপ কাজ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হওয়ার পর বিনা টেন্ডারে অত্যন্ত গোপনে ‍নিজেরা ভাগাভাগি করে নেয়। এর প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি ঠিকাদার কল্যান সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাজেপ চেয়ারম্যানে অপশক্তি বলতে কাকে বুঝিয়েছেন তা আমরা জানি না। আমার মতে অপকর্ম করে সরকার বিরোধি কাজ কর্ম করে টেন্ডারবাজ, দুর্ণীতিবাজ, এবং ভূমিদস্যু এরাই এই সমাজের অপশক্তি। আমরা এহেন মিথ্যা কথার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে দিদারুল আলম বলেন, ৭টি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া অন্য কোন বিজ্ঞপ্তি কোন পত্রিকায় প্রকাশ হয়নি। যদি কোন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে থাকে তাহলে সেটি কোন পত্রিকা ?

এদিকে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন রোয়াজার প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ‘এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন রোয়াজার সাথে ঠিকাদার কল্যান সমিতির প্রতিনিধি দল দেখা করলে তিনি (জীবন রোয়াজা) জানান, আমি ৭টি বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছি। বাকী ৮৭গ্রুপ কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং আমি কোন কাগজে স্বাক্ষর করেনি। এগুলো টেন্ডার কমিটির আহবায়ক মংসুইপ্রু চৌধুরী ভালো বলতে পারেন। আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করুন। তাহলে কি আমরা ধরে নিচ্ছি মালিক বলে উন্মুক্ত টেন্ডার আর কর্মচারী বলেন গোপন টেন্ডার, এটাকি চোর পুলিশের খেলা।’

অপরদিকে, পাজেপ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বরাতের নিকুজেশন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা কখনো নিকুজেশনের প্রস্তাব করিনি। আমরা শুধু উন্নয়নমূলক কাজকর্মের বিষয়ে জানতে চেয়েছি, কিভাবে হচ্ছে। যেহেতু আমরা সরকারি দলের একটি অংশ। যারা রাজনীতি করে তাদের সাথে নেতাকর্মী থাকবে, বহর থাকবে। আর যারা রাজনীতি করে না এবং সুবিধাবাদ ও জিন্দাবাদ হিসাব করে তারা জনশূন্য, তাদের কোন নেতাকর্মী নেই। আমি বলি রেডিমিট পোষ্ট পেয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যহার করছেন। একবার নির্বাচন করুন দেখেন জামানত থাকে কি না।’

পাজেপ চেয়ার‌ম্যানের বক্তব্যের অপর একটি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা বলতে চাই পাহাড়ের অশান্তিতো আপনারা তৈরী করেছেন। আমরাতো পাহাড়ী-বাঙালি সবাই এক কাতারে থাকতে চাই। হাইস্কুল মাঠে যে, মেলার আয়োজন করা হয়েছে তাতে কি পরীক্ষার বিঘ্ন ঘটবে না ? এছাড়াও প্রতিবাদলিপিতে টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজীর প্রতিবাদ করলে যদি আওয়ামীলীগের সুনাম নষ্ট হয়, তাহলে কি করলে আওয়ামীলীগৈর সুনাম হয় তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয়।

প্রতিবাদ লিপিতে সদস্য সচিব দিদারুল আলম ঠিকাদার কল্যান সমিতির পক্ষে থেকে এ ধরনের মিথ্যা বানোয়াট ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং পাজেপ, খাগড়াছড়ির টেন্ডার সংক্রান্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

প্রসঙ্গত: প্রেরিত প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখযোগ্য বিষয় সমূহ হুবহু তুলে ধরা না হলেও প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছে পার্বত্যবাণী।

খাগড়াছড়ি পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর বরাতসহ পুরো সংবাদটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*