পরকীয়া দেশে দেশে

porokiaঅনলাইন ডেস্ক: 
পরকীয়া এখন দেশে দেশে সামাজিক একটি ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নানা দেশে পরকীয়ার চিত্রটা আসলে কেমন? এ ধরনের ঘটনা কতটা স্বাভাবিক? পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন কারা বেশি – নারী না পুরুষ? গবেষণা বলছে পশ্চিমা বিশ্বে স্বামীরাই স্ত্রীদের ঠকান বেশি। স্বামীকে লুকিয়ে পর পুরুষের সাথে প্রেম করেছেন, একথা নারীরা প্রকাশ করতে চান না। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাসহীনতার বৈজ্ঞানিক পরিমাপ করা কঠিন কাজ। খবর বিবিসির। মিশরের এক টিভিতে টক-শো অনুষ্ঠান নিয়ে মহা বিপদে পড়েছেন টেলিভিশনের কর্তাব্যক্তিরা।

ওই টক-শো`র একজন অতিথি আলোচনার মাঝখানে হঠাৎ করেই মন্তব্য করে বসেন যে মিশরের অন্তত ৩০ শতাংশ মহিলা পরকীয়ায় জড়িত। এ নিয়ে সারা দেশে এতটাই হৈচৈ শুরু হয় যে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটিকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখে। প্রায় সব দেশেই পরকীয়া সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য আচরণ। কোন কোন দেশে একে রীতিমতো অপরাধ বলেই মনে করা হয়। কিন্তু ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে চালানো গবেষণায় জানা যাচ্ছে স্বামীরা স্ত্রীদের চেয়ে বেশি পরকীয়া করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৬ সালে সোশাল সার্ভেতে জানা যাচ্ছে, বিবাহিতদের মধ্যে স্ত্রীকে লুকিয়ে অন্য মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক করেছেন এমন পুরুষের সংখ্যা নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ।

ব্রিটেনে ২০০০ সালের এক গবেষণা বলছে, একই সাথে একাধিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন ১৫ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৯ শতাংশ। ফ্রান্সের ইন্সটিটিউট অব পাবলিক ওপিনিয়নের জনমত জরিপ বলছে, অর্ধেকের বেশি ফরাসী এবং ইতালিয় পুরুষ স্বীকার করেছেন যে জীবনের কোন এক সময় তারা জীবনসঙ্গীকে ঠকিয়ে অন্যের সাথে সম্পর্কে করেছেন। ওই একই জরিপে ৩৪ শতাংশ ইতালিয়ান মহিলা এবং ৩২ শতাংশ ফরাসি মহিলা একইভাবে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মানুষের যৌন আচরণ সম্পর্কে জানতে কনডম প্রস্তুতকারী কোম্পানি ডিউরেক্স ২০০৫ সালে একটি বিশাল জনমত জরিপ চালায়। এই জরিপে ৪১টি দেশে মোট ৩১৭০০০ মানুষের মতামত নেয়া হয়।  এই জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে, পরকীয়ার কথা স্বীকার করে এমন পুরুষের সংখ্যা তুরস্কে বেশি। অন্যদিকে ইসরায়েলের পুরুষরা পরকীয়া করলেও সেটি স্বীকার করতে একবারেই নারাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*