নিউটনের আপেল কাহিনী জানে, কিন্তু ঝরে পড়ার কারন জানে না!

মুহাম্মদ আবুল  কাসেম: আমার লেখাটি নিউটনের আপেল কাহিনী নিয়ে নয়। আমার লেখাটি ঝরে পড়ার। আমরা সবাই নিউটনের আপেল কাহিনী জানি, যার ফলশ্রুতিতে  এসেছে মাধ্যাকর্ষন তথ্য। এ তথ্যটি শিক্ষক, ছাত্রসহ সকলের জানা থাকলেও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক স্তর থেকে এবছর খাগড়াছড়ি জেলায় ৫৭৭টি তাজা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঝরে পড়ার প্রকৃত কারন কেহ জানাতে পারেনি ! তাহলে ঝরে পড়ার লাইনকি এ জেলায় দিনে  দিনে বাড়তে্ই থাকবে। কেন আমরা বিষয়টি গুরুত্বহীন ভাবে দেখবো। বিশেষ করে পার্বত্য জেলায় বিষয়টি গুরুত্বহীন ভাবে দেখার সুযোগ আছে কি?

পাহাড়েতো সকল খাতে উন্নয়নের জন্য  বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য আলাদা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছে বর্তমান সরকার। এই মন্ত্রণালয়ের অধিনে শিক্ষার জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বৃত্তি,জেলা পরিষদ বৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, উন্নতমানের ক্লাসরুম তৈরী,মাল্টিমিডিয়া ব্যবস্থাতো রয়েছে।  এছাড়াও শিক্ষা প্রকৌশল, এলজিইডিসহ দেশী-বিদেশী শতশত এনজিও সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনগুলো কাজ করছে শিক্ষার উন্নয়নে। তাহলে কেন ৫৭৭জন শিক্ষার্থী এবছর সমাপনী পরীক্ষায় পরীক্ষা ফি দেওয়ার পরও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকবে? এর প্রকৃত কারন ও রহস্য অবশ্যই উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।

ঝরেপড়ার কারন খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। তাও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি। এর আগে অন্য কোন পাজেপ চেয়ারম্যান বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এমন আদেশ করেননি।তারই নির্দেশ কি পারবে ৫৭৭জনকে ফিরে আনতে শিক্ষার মূলস্রোতে ? এগিয়ে আসতে হবে সমাজের সকলকে। কথা বলতে হবে প্রত্যেক সচেতন নাগরিকদের। প্রয়োজনে ঘরে ঘরে আওয়াজ দিতে হবে ‘ঝরে পড়ার সুযোগ নাই, ঝরে পড়ার মাফ নাই’

এত্তোসব প্রতিবাদী কথা বলার একমাত্র কারন হচ্ছে- এ প্রতিনিধি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বৃহৎ একটি অংশ অনুপস্থিত তথা ঝরে পড়ার অন্যতম কারন কি তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে অনেকের সাথে কথা হয়। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগি শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষা অফিসারসহ সমাজের নানা শ্রেণির বুদ্ধিজীবির সাথে। বিশেষ করে ভিন্ন পেশাজীবীরা জানাতে অক্ষম হলেও অধিকাংশ শিক্ষকরাই জানাতে পারেনি ঝরে পড়ার অন্যতম কারন। বিষয়টি হাস্যকর হলেও নাম প্রকাশ্যে এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘‘শিক্ষকরা নিউটনের আপেল ঝরে পড়ার গল্পটি জানে, কিন্তু স্কুল থেকে ঝরে পড়ার কারন জানে না’’ জানার চেষ্টাও করেন না !

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এবছর জেলার ৯টি উপজেলায় পিএসসিতে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ১৪হাজার ২শ ৫জন পরীক্ষার্থীরে মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬৭১০জন ও ছাত্রী ৭৪৯৫জন এবং ইংরেজি ভার্সনে সদর, মানিকছড়িতে ১৬জন শিক্ষার্থী। তন্মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ১০টি কেন্দ্রে ৪৭জন অনুপস্থিত। দীঘিনালায় ১০টি কেন্দ্রে ২৪৫৬জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭জন, পানছড়ির ৬টি কেন্দ্রে ১৩৫৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬জন, মহালছড়ির ৫টি কেন্দ্রে ১৩৪৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪জন, মাটিরাঙার ১৪টি কেন্দ্রের ৩১৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৫জন, রামগড়ে ৫টি কেন্দ্রে ১৩১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২জন, মানিকছড়ির ১৭৬৮জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬জন ও লক্ষ্মীছড়ির ৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৬৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১জন অনুপস্থিত রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয়, খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালায় অনুপস্থিতির দিকে ছাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকলেও সকল উপজেলায় ছাত্রের সংখ্যায় বেশি। সদর উপজেলায় ১৫জন ছাত্রের তুলনায় ৩২জন ছাত্রীই অনুপস্থিত।অপরদিকে, ইবতেদায়ীতে জেলার একমাত্র দূর্ঘম উপজেলা লক্ষ্মীছড়ি ছাড়া অপর ৮টি উপজেলার  মোট পরীক্ষার্থী ৮৫১জনের বিপরীতে অনুপস্থিত রয়েছে ৯৯জন। তন্মধ্যে ৩৭জন ছাত্রী ও ৬২জন ছাত্র অনুপস্থিত। তথ্যমতে, ইবতেদায়ীতে উপস্থিতির হার সবচেয়ে কম পানছড়িতে।

সদর ‍উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে,  জেলা সদরের ১০টি কেন্দ্রে যারা পরীক্ষা ফি দেয়ার পরও পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছেন-রোল নম্বর যথাক্রমে-৩৪,৩৯,১৫৩,১৬৯, ২১৯,ম-৩৬৯,ম-২৫৬,৩৩৯, ৩৪২, ৩৮৭, ম-৪৩৩, ম-৪৬৭,ম-৪৯৭,৫৫৭,ম-৫৭৮ ম-৬০৪, ম-৬০৭,ম-৬০৮, ম-৬২৬,৬২৯, ৭৯১,ম-৬৬৭,ম-৬৭৩,৯৮৫, ১০১৪,৮৪০,৯৩০, ৯৩১, ম-৯৪৯,১০৯৮(মৃত),ম-১১০৭, ম-১৬৯৭, ম-১৮৬৮, ম-১৮৭০, ম-১৮৭১,ম-১৯০২, ১২৮৮, ম-১৭৫১, ম-১৩৭৬,ম-১৮২৩,ম-১৮৪০,১৯৩৯,ম-১৯৮৫, ম-১৮৫৮,ম-১৯৯৭,২১২৮ ও ২১৪০।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*