দেশ সেরা তিন কিশোরী ফুটবলারের গৃহ নির্মাণ এবং লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন কংজরী চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ সেরা তিন কিশোরী ফুটবলার আনুচিং মারমা , আনাই মারমা  ও মনিকা চাকমার জীবনকে বিকশিত করার লক্ষ্যে তাদের গৃহ নির্মাণ ও লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সাথৈঅং কার্বারী পাড়ায় যমজ দুই কন্যা আনুচিং ও আনাই মারমা’র বাড়িতে হাজির হন। তাঁকে কাছে পেয়ে এই কৃতি ফুটবলারের বাবা দিনমজুর রিপ্রুচাই মারমা ও মা আপ্রুমা মারমা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের তিন কন্যার সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিতে এবং তাঁদের জীবনকে বিকশিত  করার লক্ষ্যে  পার্বত্য  জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  চলতি অর্থবছরের মধ্যেই আনাই-আনুচিংদের ঘরটি পূন:নির্মাণ করার প্রত্যয় জানান। একই সাথে তিনি আরেক কৃতী ফুটবল কন্যা লক্ষ্মীছড়ির দূর্গম সুমন্ত পাড়ার মনিকা চাকমা’র ঘরও নির্মাণের ঘোষণা দেন। এছাড়া এই তিন ফুটবল কন্যার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে এফডিআর, শিক্ষাবৃত্তিসহ তাঁদের জন্য করণীয় সব দায়িত্ব পালন করবে জেলা পরিষদ। এসময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) সভাপতি নুরুল আজম, জেলা পরিষদের পিআরও চিংলামং চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশ সেরা তিন কিশোরী দারিদ্র্যতাকে জয় করতে পারেনি : গত ২৪ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাই মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৫ সাফ ওমেন চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল খেলায় ভারতকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।  ফাইনাল খেলায় বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে এ জয়ে খাগড়াছড়ির  মেয়ে আনুচিং মারমা (ফরোয়ার্ড), আনাই মারমা (রাইট ডিফেন্ডার) ও মনিকা চাকমা সেন্টার মিড ফিল্ডে লড়াকুভাবে খেলে বাংলাদেশ দলকে এনে দিয়েছে শিরোপা।

জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলার মধ্যদিয়ে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন বুনতে থাকেন তারা। খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দূর্গম সুমন্তপাড়ার গ্রামের মেয়ে মনিকা চাকমা। খেলাধূলা দূরের কথা মৌলিক অধিকারের অনেক সুবিধাই নেই এই গ্রামে। তবুও নিজের প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও ক্রীড়া নিপুণতা দূর্গম গ্রাম থেকে তুলে এনেছে তাকে। একই অবস্থা খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সাথৈঅং কার্বারী পাড়ার যমজ বোন আনাই মারমা ও আনুচিং মারমাদের গল্প। সাত ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট তারা। পরিবারের অভাব অনটন থাকায় ঠিক মতো তাদের দেখভাল করতে না পারার ভয়ে জন্মের পরপরই দত্তক দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতার বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় তিন জনের খেলার কৌশল নজরে আসে রাঙামাটির ক্রীড়া সংগঠক বীর সেন চাকমার। তার তত্বাবধানে আনুচিং, আনাই ও মনিকাকে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয় দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে। ভারতের বিপক্ষে শিরোপা ঘরে এনে দেশজুড়ে পাহাড়ী জনপদ খাগড়াছড়িকে আলোচনায় এনেছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশকে জয় এনে দিলেও নিজেদের দারিদ্র্যতাকে জয় করতে পারেনি তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*