দীঘিনালায় গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা এনজিও, প্রশাসনের অচেনা!

ccdrমোঃ আল আমিন, দীঘিনালা: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছে এনজিও সংস্থা সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিসার্চ (সিসিডিআর)! বছর ধরে খোঁজ না থাকায় মুলধনও না পাওয়ার আশঙ্কায় ভূগছেন ডিপিএস খোলে টাকা জামাদানকারি অসংখ্য গ্রাহক; আর বেকায়দায় পড়েছেন অফিস হিসেবে ভাড়াদাতা বাড়ির মালিক। প্রশাসন বলছে, সিসিডিআর নামের কোন এনজিও’র কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রমতে, উপজেলায় কোন এনজিও কার্যক্রম শুরুর আগে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হয়। এমনকি সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতি মাসে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। কিন্তু সিসিডিআর নামের এনজিও সংস্থাটির কোন কিছুই প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি। উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওসমূহের তালিকায় পনেরটি এনজিওর নাম থাকলেও নাম নেই সিসিডিআর এর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাবুপাড়ার একটি বাসার দুইটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অফিস হিসেবে ব্যবহার করতো সিসিডিআর। নিদৃষ্ট মেয়াদি ডিপিএস খোলে গ্রাহকদের নিকট থেকে সঞ্চয়ি টাকা উত্তোলন করতো মাঠকর্মীরা। মেয়াদ পূর্ন হলে দ্বিগুন টাকা ফেরৎ পাওয়ার আশা ছিল গ্রাহকদের। কম সময়ের ডিপিএস যেটা সেটাও ছিল পাঁচ বছর মেয়াদি। কিন্তু চার বছর পূর্ন হওয়ার আগেই উধাও হয়েছে সিসিডিআর এমনটাই অভিযোগ গ্রাহকদের। সংশ্লিষ্টরা কেউ নেই এবং অফিসের কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় প্রতারিত গ্রাহকদের প্রকৃত সংখ্যাও জানা যাচ্ছেনা। তবে, গ্রাহকদের ধারনা অনুযায়ী গ্রাহক সংখ্যা ৩শতাধিক ছিল।
বোয়ালখালি পুরাতন বাজারের মৃদুল বড়–য়া জানান, ৫ বছর মেয়াদি ডিপিএস করেছিলেন তিনি। প্রায় চার বছরে ২৬ হাজার ৪০০টাকা জমা দিয়েছেন। এক বছর হলো মাঠকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কারো খোঁজ না পেয়ে অফিসে গিয়ে দেখেছেন অফিস তালাবদ্ধ। এ অবস্থায় আসল টাকাও ফেরৎ না পাওয়ার আশঙ্কায় আছেন তিনি। একই অভিযোগ করে পশ্চিম থানা পাড়ার হাসিনা বেগম জানান, তিনিও ৫বছর মেয়াদি ডিপিএস খোলে কিস্তিতে ৩১ হাজার ৭২০ টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু হটাৎ অফিস বন্ধ করে সবাই চলে গেছে; এখন মূলধন ফেরত পাবেন কিনা সে চিন্তায় আছেন তিনি। এরকম অভিযোগ রয়েছে আরো অনেক গ্রাহকের।
বাবুপাড়ার অফিসে গেলে বাড়ির মালিক সুবোধ চাকমা (৮০) জানান, মাসিক ৫হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারন করে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে দুইটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে সিসিডিআর। গত বছরের নভেম্বরে কিছু না বলেই চলে যায় সংস্থাটির লোকজন। এর পর থেকে ভাড়াও পরিশোধ করছেনা; তিনি যোগাযোগ করলেও তেমন সাড়া দিচ্ছেনা। তাদের কিছু আসবাব পত্র থাকায় তিনি কক্ষ দুইটি অন্যদেরকেও ভাড়া দিতে পারছেননা। সিসিডিআরকে ভাড়া দিয়ে এখন নিজেই বেকায়দায় আছেন বলেও জানান সুবোধ চাকমা।
অফিস হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষ দুইটিতে দেখা যায়, কিছু আসবাব পত্র আছে আর দেয়ালে ঝুলছে সিসিডিআর এর ক্যালেন্ডার। ক্যালেন্ডারের নিচে লেখা রয়েছে সিসিডিআর এর প্রধান কার্যালয় রাঙ্গামাটি, রয়েছে ফোন নাম্বারও। সেখানে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে (০১১৯১৪০৩০৯৭) ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়া গেছে আর ল্যান্ড ফোনে (০৩৫১-৭১৩৭৫) ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করেননি। এছাড়া গ্রাহকদের সঞ্চয়ি বইয়ে মাঠকর্মী হিসেবে পরিপন চাকমা ও তার মোবাইল নাম্বার (০১৫৫৬৬৫২৭৭৫) রয়েছে; কিন্তু সে নাম্বারে ফোন দিয়ে সেটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, এনজিওটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসন অবগত নয়। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রথমত সংস্থাটির বিরুদ্ধে অফিস হিসেবে ভাড়া প্রদানকারী বাড়ির মালিকের থানায় সাধারণ ডায়েরি করা উচিত বলেও পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*