ত্রিপুরা সমাজের অবদানকারীরা পাহাড়ে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে: সুবর্ণ জয়ন্তীতে এমপি কুজেন্দ্র

IMG_5915নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেছেন, যাদের আন্তরিক মনোভাবতায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদ গঠিত হয়েছে তারা ত্রিপুরা সমাজের মধ্যে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। সেই সব গুণীজনরা পার্বত্যাঞ্চলের আলোর দিশীরা। তিনি আজ শুক্রবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের প্রতিষ্ঠার ৫০বছর পুর্তি: সুবর্ণ-জয়ন্তী উদযাপন-২০১৬খ্রি: আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে একথা বলেন।

কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ(বিটিকেএস)  আয়োজনে প্রধান অতিথি সাংসদ কুজেন্দ্র বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠির কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত মহানুভবতায় পার্বত্য জেলাবাসীর সুবিধার্থে রাজধানীর বেইলী রোডে ১একর ৯৪শতক ভূমিতে কোটি টাকা ব্যায়ে ‘সিএইচটি কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে পাহাড়ের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করায় প্রধান অতিথি খাগড়াছড়িবাসীর পক্ষ হতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এসময় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সামাজিক এ সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ত্রিপুরা সমাজের উন্নয়নের জন্য নগদ ২লক্ষ টাকা ও প্রতিমাসে ব্যক্তিগত ভাবে ১০হাজার টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, ত্রিপুরাদের ইতিহাস একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস। ত্রিপুরারা নিজেদের সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় ও আন্তজার্তিক ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এসময় তিনি সংগঠনটি গতিশীলতার জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ হতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ(বিটিকেএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলী, সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি সুরেশ মোহন ত্রিপুরা, সাবেক সভাপতি মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, উপদেষ্ঠা সাগরিকা রোয়াজা, খাগড়াপুর মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা, সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান রনিক ত্রিপুরা, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান বিউটি রানী ত্রিপুরা।

হরিপদ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক সুশীল জীবন ত্রিপুরা, সাধারন সম্পাদক ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বিবিসুৎ ত্রিপুরা সুকান্ত, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও উপদেষ্টা রনজিত নারায়ন ত্রিপুরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির গবেষক চিংলামং চৌধুরী ও খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা একান্ত সহকারী খগেন্দ্র ত্রিপুরা।

এর আগে সকালে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশনা এবং শান্তির পায়রা, রঙিন বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। পরে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানের অতিথিদের।

প্রসংগত: বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদ ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমানে ত্রিপুরা সমাজের এ সংগঠনটির সারাদেশে ১৪টি আঞ্চলিক শাখা ও ২২টি উপ-আঞ্চলিক শাখা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*