তিন পার্বত্য জেলায় নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই খনন শুরু করবে সরকার

নৌ মন্ত্রীনিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাকৃতিক লীলাভূমি তিন পাহাড় তথা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় নদীর নাভ্যতা ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই খনন কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই একই সঙ্গে তিন জেলায় তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। আজ রবিবার সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নদীর সীমানা নির্ধারণ, নাব্যতা বৃদ্ধি এবং স্থলবন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত সভা শেষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন, কাচালং, মাইনি, কর্ণফুলী, ইছামতি, চেঙ্গি, মাতামুহুরী, সাঙ্গু, ফেনী, হালদাসহ পার্বত্য এলাকার অন্যান্য নদীগুলো খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীসভায় আমরা একমত হয়েছি পার্বত্য চট্টগ্রামের নদীগুলো খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বিআইডব্লিউটি মাধ্যমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও কার্যক্রম শুরু করবে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সদস্যরা ব্যাপারে আমাদের সহায়তা করবেন। পার্বত্যাঞ্চলের জনপ্রতনিধিদের নিয়ে নদী খননের উপায় নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে শাজাহান খান বলেছেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের মাধ্যমে নদীর সীমানা নির্ধারণ করব। বিআইডব্লিউটি মাধ্যমে নদীর খনন কাজ শুরুর পর উত্তোলিত মাটি দিয়ে নদীর তীরবর্তী জায়গাগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটি চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেনতিনি বলেছেন, অনেক নদীর শাখা বা উপনদী আছে। আমরা দেখব সেগুলোর কোনগুলো খনন করা যায়। এজন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যে সহায়তা প্রয়োজন হবে তাও আমরা নেব। খাগড়াছড়ির রামগড়ে একটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হবে জানিয়ে শাজাহান খান বলেছেন, রামগড়সাব্রুম স্থল বন্দরের কাজ আমার শীঘ্রই শুরু করতে চাই। খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ ছাড়া বান্দরবানে ঘুমধুম স্থলবন্দর রাঙ্গামাটির থেগামুখ স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, কীভাবে আমরা বন্দরগুলো করব, এজন্য আলোচনা চলছে। সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত ঘুমধুম স্থলবন্দরের অপরপাশে মিয়ানমার এবং থেগামুখ বন্দরের ওপাশে ভারতের মিজোরামের দেমাগ্রী এলাকা। এ স্থলবন্দরের ফলে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, মালামাল কিন্তু এমনি ওখানে আদানপ্রদান হয়। যেটা হয় অবৈধভাবে। এটা বৈধভাবে করলে উভয় দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, ব্যবসাবাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মালামাল আনানেওয়ায় কোনো আইনগত অসুবিধায় তারা পড়বেন না। বিশ্বব্যাংক স্টাডি করে এসব জায়গায় বন্দর করার জন্য মতামত দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন শাজাহান খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*