ঢাকা থেকে চমেকে ছুটে গেলেন পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী: চানিতা ত্রিপুরার মুখে হাঁসি

Chanitaনিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ আড়াই বছর পর মাথায় পঁচন ধরা চানিতা ত্রিপুরার ‍মুখে হাঁসি ফুটেছে। হাঁসি ফুটেছে এক নি:স্ব পরিবারের। আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে চানিতা ত্রিপুরা এমনটাই প্রত্যাশা চানিতা ও তার পরিবারের।

মাথায় পচন নিয়ে অসহ্য-অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ির পুরাতন যৌথ খামার এলাকার নি:স্ব কৃষক চাইহ্লাপ্রু ত্রিপুরার ২২বছর বয়সী এই কিশোরীকে অবশেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  (চমেক)  চিকিৎসাধীন । দীর্ঘ দুই বছর যাবত চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারানো এই পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সেনাবাহিনী, পার্বত্য সচিব ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

ঢাকা থেকে চমেকে পাজেপ চেয়ারম্যান: সরকারি কাজে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ঢাকায় অবস্থানকালে পাবর্ত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার মুখে চানিতা ত্রিপুরার সংবাদ শুনার পর মন্ত্রনালয়ে সভা শেষে আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা থেকে সরাসরি ছুটে যান চমেকে। সেখানে গিয়ে তিনি নিউরী সার্জারী বিভাগে ২৮নং ওয়ার্ডে ৪৪ নং বেডে চিকিৎসাধীন চানিতা ত্রিপুরার চিকিৎসার খোজ খবর নেন এবং চানিতা ত্রিপুরার হাতে তাৎক্ষনিক ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা নগদ অনুদান প্রদান করেন। এসময় তিনি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।  এসব তথ্য জানিয়েছেন পাজেপ চেয়ারম্যান’র একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী চিংলামং চৌধুরী।

এর আগে বলতে হয়, এক স্কুল শিক্ষকের মানবিক গল্প: মহালছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুইলামং চৌধুরী সম্প্রতি তিনি বিকাল বেলায় যৌথ খামার এলাকায় বেড়াতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ২২বছর বয়সী কিশোরী চানিতা ত্রিপুরার মাথায় পচনের এক করুন চিত্র দেখতে পান। তাকে কাছে পেয়ে চানিতা ত্রিপুরা- (স্যার,আমি মরতে চাইনাআমি যন্ত্রনায় ঘুমাতে পারিনা, খেতে পারিনাঅপারেশন করিয়েছি,ওষুধ খেয়েছিভাল হয়নাআমাকে একটু দয়া করুন।”) বেঁচে থাকার আকুল আবেদন করেন। এই স্কুল শিক্ষক তার বেঁচে থাকার আকুল আবেদন ও পরিবারের করুন দশার বিবরণ দিয়ে গত ১৯জুন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে (ফেইসবুক) একটি ভিডিওক্লিপ সহ সমাজের বিত্তবানদের নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।  

তিনি পার্বত্যবাণীকে জানান, চানিতা ত্রিপুরা পরিবারের ১ভাই ৪বোনের মধ্যে ছোট। ব্র্যাক স্কুলে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা তার। দুই বছর আগে মাথায় একটি ছোট পোঁড়া দেখা দেয় চানিতার। পরিবারের পক্ষ হতে মানিকছড়িতে পর পর দুইবার অপারেশন করা হয়। এছাড়াও ৩য় বার ফটিকছড়িতে গিয়ে তার অপারেশন করা হলেও ৬মাস পর্যন্ত মাথা থেকে পচাঁ পুজ, রক্ত বের হতে থাকে। চানিতা ত্রিপুরার দুলাভাই জাবলী ত্রিপুরার বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, চানিতা ত্রিপুরার তিন-তিনবার অপারেশন করাতে গিয়ে পরিবারটি একেবারেই নি:স্ব হয়ে পড়েছে। ফলে ৬মাস বিনা চিকিৎসায় মানবেতর অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে দিন কাটাতে হয়ে হয়েছে চানিতার। বার বার চানিতা  স্রষ্টার নিকট আহবান জানাচ্ছে মৃত্যুর স্বাদ নিতে। তখন এই স্কুল শিক্ষক নিজ আইডি (https://web.facebook.com/piplu.rakhain) থেকে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তার চিকিৎসার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহালছড়ি সেনা জোন, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন, পার্বত্য সচিব ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি জানতে পেরে আন্তরিক ভাবে খোঁজ নেন পার্বত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। পার্বত্য সচিব তার চিকিঁসার জন্য খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার’র দৃষ্টি আকর্ষনও করেন এবং সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নেন। (Bikram Kishore Tripura Follow up : Had a telephonic talk with Khagrachari Region Commander Brig Mahbub. He is arranging to shift the patient to Ctg for better treatment.)

অবশেষে মহালছড়ি জোন কমান্ডারের সহযোগিতায় চানিতা ত্রিপুরাকে খাগড়াছড়ি সেনাবাহিনীর এমডিএস পাঠানো হলে চানিতার মাথায় ব্রেইন টিউমার সনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার এই শিক্ষক সঙ্গে গিয়ে চানিতা ত্রিপুরাকে চমেকে ভর্তি করান ।

মানুষ গড়ার কারিগর এই স্কুল চানিতা ত্রিপুরার উন্নত চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পার্বত্য সচিব ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ সকলের  প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*