টাইগারদের নাগিন-ড্যান্স থামাতে পারেনি লংকান বিন

আবুল কাসেম: টাইগারদের নতুন স্টাইল নাগিন ড্যান্স। জয়ের উচ্ছাসে প্রতিপক্ষকে  ছুঁড়ে দেয়া সৃষ্ট নাগিন ড্যান্স থামাতে মাঠে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বোলাররা যখন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক মুশফিকের ক্যাচ লুপে নেয় বোলার তখন সাপের বিন বাজানোর স্টাইল ছুঁড়ে দেয়। ঠিক যখনি স্টেডিয়ামে ভরপুর লংকান দর্শক টাইগারদের  বিনে বশ করার মুহুর্তে আনন্দে ভাসছে। ঠিক তখনি অগোচরের নায়ক মাহমুদুল্লাহ’র ব্যাটিং তান্ডবে সেই বিন স্টাইল খাঁচায় ঢুকে পরে। লংকান স্টেডিয়ামে টাইগারদের জয়ের উচ্ছাসে নাগিন ড্যান্সে মাঠ ছাড়ে বীর বাংলার টাইগারটীম।

ডু-অর-ডাই ম্যাচে ২ উইকেটের জয় নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ম্যাচের ১ বল হাতে রেখেই ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন দলের তারকা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর

এ জয়ের ফলে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা।

শনিবার ম্যাচের পরতে পরতে রং বদলায়। শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানদের প্রথম দিকে চাপে ফেললেও শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে স্বাগতিকরা।

১৬০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩৩ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে খেলায় ফেরান তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা ৬৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখান।

এরপর ১২ রানের ব্যবধানে সেট ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার আউট হলে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম দুই বল নো করেন ইসুর উদ্যান। কিন্তু ফিল্ড আম্পায়ার নো বলের কল করেননি। যে কারণে প্রতিবাদ করেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। আম্পায়ারকে বিষয়টি বলা হলেও তাতে কান দেননি।

আম্পায়ারদের এমন সিদ্ধান্তে একটা সময়ে মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সাকিব আল হাসান, মাঠে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং রুবেল হোসেনকে খেলা ছেড়ে চলে আসতে বলেন। কিন্তু রিয়াদ নিজের ওপর আস্থা রেখে ম্যাচ শেষ করতে ফের ব্যাটিং করেন।

ওভারের প্রথম দুই বলে কোনো রান না করেই এক উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ ৪ বল দরকার ১২ রান। ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে জয়ের পথ সহজ করেন রিয়াদ। পরের বলে রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে ডাবল নেন। পঞ্চম বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তার ছক্কায় জিতে যায় দেশ। বাংলাদেশ চলে যায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*