জুয়েল চাকমার জুয়েলারীতে প্রাণচাঞ্চল্য খাগড়াছড়ির ক্রীড়াঙ্গন

jewelchakmaমুহাম্মদ আবুল কাসেম: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার এক আলোচিত নাম জুয়েল চাকমা। এইতো বেশিদিনের কথা নয়, তার ওপর অপ্রীতিকর এক ঘটনায় রাজপথে নেমে এসে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছিল নিজ দলের নেতাকর্মীসহ জেলার হাজার হাজার অরাজনৈতিক যুবসমাজ, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের মিডিয়াতে ওঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়। যার দীর্ঘদিনের অক্লান্ত শ্রম ও মেধার ভিত্তিতে খাগড়াছড়ির ক্রীড়াঙ্গন ফিরে পেয়েছে আজ প্রাণ চাঞ্চল্যতা। এমনটাই বক্তব্য জেলার উদীয়মান ক্রিকেটার, ফুটবলার ক্রীড়ামোধি জনমানুষের।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৩বছর পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে জড়িত জুয়েল চাকমা ক্রীড়াক্ষেত্রে দারুন অবদান রাখছেন এবং পাশাপাশি পর পর দুই দুই বার নির্বাচিত হয়ে সাধারন সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের একজন ক্লীন ইমেজধারী সদস্যও বটে। ইতোমধ্যে  সফলতার ঝুঁড়িতে যুক্ত হয়েছে ডিভিশনাল ক্রিকেটে খাগড়াছড়ির উদীয়মান ক্রিকেটারদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত সহ ডিভিশনাল পর্যায়ে খাগড়াছড়ির একজন ক্রিকেটার হয়েছেন বেস্টঅব প্লেয়ারের খ্যাতি।

বিগত বছরগুলো ঘেটে দেখা যায়, ক্রীড়াক্ষেত্রে খাগড়াছড়ির আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে। হারতে হারতে লজ্জা নিয়ে ফেরার সেই চিত্র এখন আর  চোখে পড়ে না। বিশেষ করে ক্রিকেট ও কারাতের মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার বেশ  জোরেসোরে লড়াই করে আসছেন বিভাগীয় পর্যায়ে। এইতো কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র আয়োজনে ইয়াং টাইগার ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে খাগড়াছড়ি জেলা  চট্টগ্রামের সাথে ২রানে পরাজয়ের স্বাদ নিলেও নোয়াখালীর সাথে ৬ উইকেটে বিশাল জয় ছিনিয়ে নেয় পাহাড়ের  টাইগাররা। স্থানীয় ক্রীড়ামোধিদের আশাবাদ, ক্রীড়াক্ষেত্রে জুয়েল চাকমার বিরামহীন তৎপরতায় এ  জেলার অনেক উদীয়মান ক্রিকেটার  এখন স্বপ্ন দেখছে একদিন পাহাড়ের টাইগাররাও বাংলার টাইগারদের সাথে দেশের হয়ে মাঠে নামবে।

খাগড়াছড়ি জেলায় একমাত্র ‘খাগড়াছড়ি ক্রিকেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিকেট প্রশিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম প্রকাশ মুজাহিদ বাবু বলেন, জুয়েল চাকমা খাগড়াছড়ির ক্রীড়াঙ্গনের  এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।  যার আলোতে আজ আলোকিত পাহাড়ের ক্রীড়াঙ্গন। ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর (জুয়েল চাকমার)  অবদান স্বল্প বক্তব্যে শেষ করার মত না হলেও বলতে হয়, তারঁই আর্থিক সহযোগিতা ও মেধা এবং চিন্তা চেতনায় খাগড়াছড়ির ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল ও কারাতে বেশ এগিয়েছে। জেলার সকল ক্রীড়াবিদদের মধ্যে জুয়েল চাকমা যেন আজ আলোর দিশারী।
জানা যায়, মুজাহিদ বাবু ২০১২সালে খাগড়াছড়ি ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই একাডেমিতে ৫০-৬০জন ক্রিকেট প্রতিনিয়ত অনুশীলন করে ক্রিকেটে দিন দিন উন্নতি করছেন। এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররা যেভাবে মানসম্মত খেলাধূলা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন তেমনি যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে এ কার্যক্রম বেশ সাড়া ফেলেছে জেলা জুড়ে।
এদিকে, গতকাল (শুক্রবার) জেলার মহালছড়ি অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্ণামেন্ট মহালছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পার্বত্যবাণী টীম অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে টুর্ণামেন্ট পরিচালনা ও খাগড়াছড়ি ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নে জুয়েল চাকমার অবদানের চিত্র। জুয়েল চাকমা প্রমান করেছেন মানসম্মত খেলাধূলা হলে দর্শকের কমতি হয় না। ফাইনাল খেলায় অংশ নেন, শেখ রাসেল ক্রীড়া সংঘ ও স্থানীয় অম্রাং ক্লাব। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠের চারিপার্শ্বে ছিল দর্শকের ভরপুর। এমনটাই ভরপুর হয় যে, নিরুপায় হয়ে ধর্ষকের ভীড় জমে চলাচলরত পাকা সিঁড়ের ওপর। বাধ্য হয়ে আয়োজক কমিটি বারবার অনুরোধ জানান, দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। দুর্গম এমন এলাকায় দর্শকের ভীড় পোস্টও সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ভাবে সারা  পেলে। স্থানীয়রা জানান, টুর্ণামেন্ট পরিচালনায় জুয়েল চাকমার জনপ্রিয়তা ও ক্লীন ইমেজতার কারনে মূলত ঘটেছে। তাছাড়াও স্থানীয় যুব সমাজের নিকটও জুয়েল চাকমা খুবই জনপ্রিয়।
তবে জনপ্রিয় পাজেপ সদস্য জুয়েল চাকমা পার্বত্যবাণীকে জানান, ‘‘ক্রীড়ার মাধ্যমে যুব সমাজের অবক্ষয় রোধ হবে এবং ক্রীড়ার মাধ্যমে একজন উদীয়মান যুবক সৎ চরিত্রবান হয়ে দেশের তরে কাজ করবে এটাই আমার প্রত্যাশা। তিনি জেলার ক্রীড়াক্ষেত্রে অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বর্তমানে ক্রিকেট ও কারাতের মধ্যে ব্যাপক উন্নতি করেছে। কারাতে গোল্ড, সিলভার অর্জনের পাশাপাশি ক্রিকেটও উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে তিনি খাগড়াছড়ির প্রতিভাবান ক্রিকেটার আল-মোমিন এর কথা বলেন। তিনি জানান, খাগড়াছড়ির ক্রিকেটার আল-মোমিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে বেস্ট অব প্লেয়ার।
অর্জনের পাশাপাশি তিনি কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি বরাদ্দ কম হওয়ার কারনে ক্রীড়ার উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারি বরাদ্দ যা পাওয়া যায় তা খরচের তুলনায় নগন্য। সরকারি বরাদ্দ দিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারী বেতন ও দুই-একটি ম্যাচ খেললেই শেষ হয়।
টানাপোড়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব থাকলেও তিনি আশাবাদী একদিন পাহাড়ের টাইগাররাও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের টাইগারদের নামে পাশে স্কোয়াডে প্রবেশ করে দেশের হয়ে খেলবে এমনটাই প্রত্যাশা জুয়েল চাকমার। সেদিনই জুয়েল চাকমার জুয়েলারীতে পাহাড় সাজবে প্রতিভাবান টাইগারদের অর্জিত সুনামে। আনন্দে মাতোয়ারা হবে পাহাড়বাসী……..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*